শ্রমিকদের বেতন পরিশোধে সরকার আড়াই হাজার কোটি টাকা দিয়েছে: শ্রমমন্ত্রী
ছোট ছোট ইন্ডাস্ট্রি যেগুলো বন্ধ হয়ে গেছে, সেসব শিল্প কারখানার শ্রমিকের জন্য ৬৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে
ডেইলি সান রিপোর্ট, সিলেট
প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
দেশে প্রথমবারের মতো কোনো কল-কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ হয়নি মন্তব্য করে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, কেবল বেতন নয়, এবার বোনাসও নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অনেক কারখানার মালিক সরে গিয়েছিল। ছোট ছোট কারখানাগুলোর মালিক পাওয়া যায় না, যেগুলো কয়েক মাস-বছর খানেক বন্ধ ছিল। তাদের এনে সেসব মিলেও শ্রমিকদের বেতন দিতে আমরা সক্ষম হয়েছি।
‘শ্রমিকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ তহবিল থেকে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএকে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। ছোট ছোট ইন্ডাস্ট্রি যেগুলো বন্ধ হয়ে গেছে, সেসব শিল্প কারখানার শ্রমিকের জন্য ৬৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শাহী ঈদগাহ ময়দানে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শ্রমমন্ত্রী বলেন, ‘জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ সংসদীয় এলাকার এবার শ্রমিকদের পাশে ছিলেন।’ ‘কোনো কোনো কারখানায় মার্চেরও অর্ধেক বেতন উনারা দিয়ে দিয়েছেন,’ বলেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিহত ও আহত প্রবাসীদের শ্রমিকদের জন্য সরকার কাজ করছে জানিয়ে আরিফুল বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যারা মারা গেছেন, তাদের মরদেহ দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে। ভূমিহীন-গৃহহীনদের পুনর্বাসনে স্থানীয় জেলা প্রশাসনগুলোকে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। এসব পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিমাসে দুই হাজার করে টাকা দেওয়া হচ্ছে।
‘ওখানে (মধ্যপ্রাচ্য) আহতদের আমরা বিভিন্ন হাসপাতালে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। প্রত্যেক মিশনে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে, যাতে আমাদের প্রবাসীরা কোথাও কোনো অসুবিধার শিকার না হন।’
যুদ্ধপরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা অপহরণের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে উল্লেখ করে বিষয়টি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী। অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্য হলো, এই সুযোগে (মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধপরিস্থিতিতে) কিছু মিসকিন, যেমন আমরা শুনছি...বাঙালি হয়েও এটা খুব দুঃখজনক যে, তারা কিছু বাঙালিকে জিম্মি করে আবার (মুক্তিপণের জন্য) ফোন করায়।’
‘আমরা এদের রুট বের করেছি, আমরা এখন ওদের ফ্যামিলির ওপর এখানে প্রেশার দিই যে, তোমরা বারণ করো,’ যোগ করেন তিনি।
সরকারের নেওয়া এসব উদ্যোগের কথা জানিয়ে আরিফুল বলেন, ‘আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধা, তারা যেন মনে করেন তাদের দুঃসময়ও এই সরকার তাদের পাশে আছে।’
গত দেড় বছরে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা সচল করতে সরকার ঈদের পরে কাজ শুরু করবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, প্রবাসে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সরকার শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও ভাষা শিক্ষার ওপর জোর দেবে।
‘আমরা শিক্ষক নিচ্ছি আগামী মাসেই।’ দালালদের আইনের আওতায় আনতেও সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
চা শ্রমিকরা এবার বেতন-বোনাস পেয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চা শ্রমিক সম্পর্কে আমাদের চিন্তা-ভাবনা আছে। এই শিল্পের বাজার এখন মন্দা। কীভাবে এটাকে সচল করা যায় এবং প্রত্যেকটা চা বাগান যাতে আবার কর্মচঞ্চল হয়, বিশেষ করে আমাদের সিলেট অঞ্চলে—এ নিয়ে আমরা কাজ করছি। ইনশাআল্লাহ আমার মনে হয় একটা সুফল আসবে।’