নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভূমিকা রাখতে হবে: ববি হাজ্জাজ
পরিবার, রাস্তা, পাড়া ও সমাজের প্রতিটি স্তরে দৃষ্টিভঙ্গি ও সংস্কৃতিগত মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম
নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্যোগী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ব্রিটিশ কাউন্সিলে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
জাতিসংঘ বাংলাদেশ ও লোকাল কনসালটেটিভ গ্রুপ অন উইমেনস অ্যাডভান্সমেন্ট অ্যান্ড জেন্ডার ইকুয়ালিটির সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে প্রত্যেক নাগরিকেরই দায়িত্ব রয়েছে। পরিবার, রাস্তা, পাড়া ও সমাজের প্রতিটি স্তরে দৃষ্টিভঙ্গি ও সংস্কৃতিগত মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।
পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ নারী সংস্থার উপপ্রতিনিধি নবনীতা সিনহা বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য নারী-পুরুষ সমতা নিশ্চিত করতে হবে। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে পুরুষরাও সমান অংশীদার হতে হবে। এই আন্দোলনে পুরুষদেরও অংশ নিতে হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বাইবা জারিনা বলেন, তরুণদের বক্তব্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, নীতিনির্ধারণ তখনই শক্তিশালী হয়, যখন তা প্রভাবিত মানুষের কণ্ঠকে গুরুত্ব দেয়।
বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস বলেন, বিশ্বের কোথাওই লিঙ্গসমতা পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। তাই এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যেখানে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সাবিহা ইয়াসমিন রোজি ও তানিয়া হক, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. তাইয়াবুর রহমান এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের পরিচালক স্টিফেন ফোর্বস।
অনুষ্ঠানের আকর্ষণীয় অংশ ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিক বক্তৃতা পর্ব। সেখানে তারা সমাজে প্রচলিত লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য, সামাজিক ধ্যানধারণা এবং ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকারের নানা বাধা নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও ভাবনা তুলে ধরেন।
আয়োজনে নারীর ক্ষমতায়ন ও লিঙ্গসমতা বিষয়ক কার্টুন এবং ভিজ্যুয়াল আর্টের একটি প্রদর্শনীও উদ্বোধন করা হয়। এই প্রদর্শনীতে শিল্পের মাধ্যমে নারী অধিকার ও সমতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে, যা দর্শকদের নতুনভাবে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে।