জাপানে খাদ্য রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে: খাদ্যমন্ত্রী
খাদ্য নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে পারলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের খাদ্যপণ্যের রপ্তানি আরও সহজ হবে
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬, ০২:৫১ পিএম
জাপানের বাজারে বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে পারলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের খাদ্যপণ্যের রপ্তানি আরও সহজ হবে।
রবিবার (৮ মার্চ) রাজধানীতে মন্ত্রীর সঙ্গে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রধান প্রতিনিধি ইচিগুছি তমুহিদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বৈঠক করেন।
বৈঠকে জাইকার অর্থায়নে পরিচালিত ‘ফুড সেফটি টেস্টিং ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি জাপান ও আসিয়ান দেশগুলোর মতো একক ও সমন্বিত খাদ্য ব্যবসা লাইসেন্স ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়। জাইকার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভারত ও পাকিস্তান ইতিমধ্যে ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে খাদ্য ব্যবসার লাইসেন্স প্রদান শুরু করেছে।
প্রায় ১০ বছর মেয়াদি ২ হাজার ৪০৯ কোটি ৭০ লাখ টাকার এ প্রকল্পের আওতায় ঢাকায় একটি ফুড সেফটি রেফারেন্স ল্যাবরেটরি এবং চট্টগ্রাম ও খুলনায় দুটি আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগার স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া প্রশিক্ষণ ভবন নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় সক্ষমতা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এর মাধ্যমে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের খাদ্য নিরাপত্তা পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়বে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের সক্ষমতা বাড়াব এবং জাপানের বাজারে বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য রপ্তানির উদ্যোগ নেব। বিশ্বব্যাপী এখন খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। আমাদের ফুড সেফটি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে পারলে খাদ্য রপ্তানি সহজ হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানির সম্ভাবনা অনেক এবং এসব পণ্যের চাহিদাও রয়েছে। তবে এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
মন্ত্রী বলেন, জনগণের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ, সরবরাহ, বিপণন ও বিক্রির প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য জাইকাকে ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের খাদ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে খাদ্যসচিব মো. ফিরোজ সরকারসহ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং জাইকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।