EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

দলের শুদ্ধিকরণে প্রাধান্য দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি টিআইবির আহ্বান

‘সড়কে চাঁদাবাজিকে সমঝোতার ভিত্তিতে লেনদেন’ হিসেবে উল্লেখ করে পরিবহনমন্ত্রী একটি ঘোরতর অপরাধকে বৈধতা দেওয়ার যে অজুহাত খুঁজেছেন তাতে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম

দলের শুদ্ধিকরণে প্রাধান্য দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি টিআইবির আহ্বান
অ অ

‘সড়কে চাঁদাবাজিকে সমঝোতার ভিত্তিতে লেনদেন’ হিসেবে উল্লেখ করে পরিবহনমন্ত্রী একটি ঘোরতর অপরাধকে বৈধতা দেওয়ার যে অজুহাত খুঁজেছেন তাতে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।সংস্থাটি এ জাতীয় দুর্নীতি সহায়ক অপচেষ্টাকে অঙ্কুরে বিনষ্ট করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাদের নিজদলের শুদ্ধিকরণে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। 

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ আহ্বান জানান। 

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘পরিবহণমন্ত্রী চাঁদাবাজির যে সংজ্ঞা দাঁড় করিয়েছেন, তা তিনিসহ মন্ত্রীপরিষদের প্রায় প্রতিটি সদস্য দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতিবিরোধী যে দৃঢ় অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন তার সম্পূর্ণ বিপরীত। ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী ইশতিহার ও সরকার প্রধানের জাতীর উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণ, যেখানে কার্যকরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের অঙ্গীকার করা হয়েছে, তার মাত্র ৪৮ ঘন্টাও অতিবাহিত না হতেই মন্ত্রীর পরিবহণ খাতের ক্যান্সার চাঁদাবাজির সুরক্ষাপ্রয়াসী এ মন্তব্য খুবই হতাশাজনক। এর মাধ্যমে মন্ত্রী তার নিজ দলের নির্বাচনী ইশতিহারে প্রদত্ত অঙ্গীকার ও সরকার প্রধানের দুর্নীতিবিরোধী দৃঢ় অবস্থানকে অবমূল্যায়ন করেছেন।’

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘তিনি যেভাবে সড়ক ও পরিবহণ খাতের বিদ্যমান চাঁদা সংস্কৃতিকে ইতিবাচক ভাবে ব্যাখ্যাসহ পক্ষাবলম্বন ও সমর্থন করেছেন, তাতে স্পষ্টতই তিনি চাঁদাবাজির মতো একটি অনৈতিক ও যোগসাজশের দুর্নীতিকে বৈধতা প্রদানের চেষ্টা করছেন। যার সরাসরি ভুক্তভোগী এদেশের পরিবহণ খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষ। শুধু তাই নয়, মালিক ও শ্রমিক কল্যাণকে যেভাবে এখানে বৈধতার অজুহাত বা ঢাল হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন, তা শুধু বিভ্রান্তিকরই নয়, বরং এ খাতে বিরাজমান দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খল ও নৈরাজ্যপূর্ণ ব্যবস্থাকে সুরক্ষাসহ চলমান রাখার অপতৎপরতার শামিল।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘সড়কে চাঁদাবাজিকে সমঝোতার নামে গ্রহণযোগ্যতা দেওয়া হলে বিআরটিএ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, আইন-শৃঙ্খলা, বিচার, পাসপোর্ট, ভূমি, প্রশাসন ইত্যাদি সেবার পাশাপাশি সরকারি ক্রয়, উন্নয়ন প্রকল্প, ব্যাংক, বিদ্যুতসহ অন্য সবখাতেও একই ত্বত্ত্বের ধারাবাহিক প্রয়োগ ও প্রসার কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে? সেই প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসবে। নবগঠিত সরকার দুর্নীতি প্রতিরোধ ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারসহ বিভিন্ন বক্তৃতা বিবৃতিতে বারংবার যে ঘোষণা দিয়েছে, তা যদি ফাঁকা বুলি কিংবা শুধু জনতুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে না হয়ে থাকে, তাহলে অনতিবিলম্বে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে পরিবহণমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করা এবং যথাযথপ্রক্রিয়ায় মন্ত্রীর দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, কর্তৃত্ববাদ পতনের পর দেশব্যাপী যেভাবে বহুমাত্রিক চাঁদাবাজি, দলবাজি, দখলবাজির হাতবদলের মহোৎসব হয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই, মন্ত্রীর এ অবস্থান কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়।

একইসঙ্গে, বর্তমান সরকারের ভুলে যাবার কথা নয় যে, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে একই ত্বত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে পতিত কর্তৃত্বপরায়ণ সরকারের সড়কমন্ত্রীও সড়কে চাঁদাবাজিকে বৈধতা দিতে উদ্যোগ নিয়েছিলো। আত্মঘাতি বিবেচনায় টিআইবি যার জোরালো প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছিলো। নবগঠিত সরকারও একইপথে হাঁটছে শঙ্কায় টিআইবি হতাশ।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আপনার প্রতি ইতোমধ্যে দেশবাসীর যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার ওপর পরিপূর্ণ আস্থা নিশ্চিত করার জন্য, আপনার পরিকল্পনায় নিজ দলের নেতা-কর্মীদের একাংশের আত্মঘাতী পথ রোধকল্পে দলীয় শুদ্ধিকরণ ও সংস্কারকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিন। অন্যথায় দেশবাসী হতাশ হবে। এর ফলে বিকল্পের খোলসে এমন শক্তি লাভবান হবে যাদের ভাবাদর্শ, দীক্ষা ও অভীষ্ট বায়ান্ন থেকে একাত্তর হয়ে চব্বিশ পর্যন্ত রক্তের বিনিময়ে লালিত বাংলাদেশের মৌলিক চেতনা ও আত্মপরিচয়ের সঙ্গে ভয়াবহ মাত্রায় সাংঘর্ষিক। সঠিক প্রাধান্য নির্ধারণের এখনই সময়।’

আরও পড়ুন