EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

তিন দশকের ঐতিহ্য ভেঙে ভিন্ন আঙিনায় বসন্ত উৎসব

আয়োজকরা নতুন সরকারের কাছে সুস্থ ও মুক্ত সংস্কৃতিচর্চার পরিবেশ বজায় রাখার দাবি জানান এবং আগামী বছর পুনরায় চারুকলার বকুলতলায় ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম

তিন দশকের ঐতিহ্য ভেঙে ভিন্ন আঙিনায় বসন্ত উৎসব

ছবি: ডেইলি সান

অ অ

ফাগুনের প্রথম দিন আর বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের যুগলবন্দীতে বাসন্তি রঙে সেজেছে রাজধানী। তবে তিন দশকেরও বেশি সময়ের ঐতিহ্য ভেঙে এবার জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদের মূল আয়োজনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলার পরিবর্তে অনুষ্ঠিত হয়েছে আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উন্মুক্ত চত্বরে।

সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজকদের মধ্যে কিছুটা সংশয় ও দ্বিধা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট জানান, নির্বাচনের পর সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং নিরাপত্তার খাতিরে এবার বিকল্প ভেন্যু হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আমাদের শেকড়, আর বসন্ত সংস্কৃতির শেকড়; তাই এই স্থানটিই ছিল উপযুক্ত।’

সকাল ৮টায় বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়ের শিক্ষার্থীদের যন্ত্র ও কণ্ঠসঙ্গীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর একে একে মঞ্চে আসেন দেশের খ্যাতনামা শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো।


রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, বহ্নিশিখা, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন দলের সমবেত গান এবং ফাহিম হোসেন চৌধুরী, অনিমা রায়ের মতো শিল্পীদের একক গানে মুখরিত ছিল প্রাঙ্গণ।

ধৃতি নর্তনালয়, স্পন্দন ও তুরঙ্গমীর মতো দলগুলোর নান্দনিক নৃত্য পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিল্পীদের পরিবেশনা এবং আবির বিনিময়ের মাধ্যমে উৎসব পূর্ণতা পায়।

উৎসবের সমাপনী পর্বে পরিষদের সভাপতি স্থপতি সফিউদ্দিন আহমদ এবং সহ-সভাপতি কাজল দেবনাথ তাদের বক্তব্যে সংস্কৃতিচর্চার ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কাজল দেবনাথ বলেন, ‘বিগত সময়ে মব সন্ত্রাস ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাধার কারণে আমরা একটি বন্ধ্যা সময় পার করেছি। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে সংস্কৃতিচর্চার বন্ধ জানালাটি আবার খুলে গেল।’

আয়োজকরা নতুন সরকারের কাছে সুস্থ ও মুক্ত সংস্কৃতিচর্চার পরিবেশ বজায় রাখার দাবি জানান এবং আগামী বছর পুনরায় চারুকলার বকুলতলায় ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের লবি থেকে শুরু করে চত্বর- সবখানেই ছিল তিল ধারণের ঠাঁই নেই অবস্থা। বন্ধুদের আড্ডা, পরিবারের সাথে ছবি তোলা আর কালজয়ী গান ‘বসন্ত বাতাস’- এর সুরে মেতে ওঠা মানুষগুলো যেন যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ভুলে বসন্তের রঙে নিজেকে রাঙিয়ে নিয়েছিলেন।

ইস্পাহানি মির্জাপুর চায়ের সৌজন্যে আয়োজিত এই উৎসব বেলা ১২টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলে।

আরও পড়ুন