EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

সন্তানের চোখ উপড়ে ফেলার সংবাদে মায়ের মৃত্যু, বগুড়ায় বিএনপি-জামায়াত উত্তেজনা

নির্বাচনি পরিবেশ শঙ্কায় কর্মকর্তাদের পদত্যাগ দাবি বিএনপির

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম

সন্তানের চোখ উপড়ে ফেলার সংবাদে মায়ের মৃত্যু, বগুড়ায় বিএনপি-জামায়াত উত্তেজনা

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

জামায়াত নেতাকর্মীর সশস্ত্র হামলায় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানার (মজিদ) চোখ উপড়ে ফেলার সংবাদে হার্ট অ্যাটাকে মা রাবেয়া বেওয়ার মৃত্যু হয়েছে। থানায় মামলা হলেও অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার না করায় স্থানীয় পুলিশ ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের পদত্যাগ চেয়েছেন বিএনপির জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার পারশুন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জামায়াত ইসলামী পেশিশক্তি প্রয়োগ করে তাণ্ডব চালাচ্ছেন অভিযোগ করে বগুড়ায় সুষ্ঠু ও উপযুক্ত নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে বিএনপি। বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা ও সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মোশারফ হোসেন ডেইলি সানকে এসব কথা বলেন। 

নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান ডেইলি সানকে জানান, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পারশুন গ্রামে ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণ করতে যান স্থানীয় জামায়াত কর্মী বেলাল হোসেন ও ফারুক আহম্মেদ। এ সময় বিএনপির লোকজন হাতেনাতে তাদের আটক করে পুলিশে সংবাদ দেন। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই জামায়াতে ইসলামীর বেশ কিছু নেতাকর্মী দলবদ্ধ হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালায়। আতঙ্ক তৈরি করে উপজেলার মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা মজিদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে হামলাকারীদের লাঠি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মাসুদের ডান চোখ উপড়ে যায়। গুরুতর অসুস্থ মাসুদ রানাকে প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও অবস্থার অবনতি হলে পরে ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সন্তানের চোখ উপড়ে ফেলার সংবাদে মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা আড়াইটার দিকে হার্ট অ্যাটাক করেন মা, ঐ গ্রামের মোহাম্মদ আলী আকন্দের স্ত্রী রাবেয়া বেওয়া (৬৫) মৃত্যুবরণ করেন।

এসব বিষয় নিয়ে মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বগুড়া প্রেসক্লাবে প্রথমে বগুড়া জেলা বিএনপি ও পরে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী বগুড়া জেলা শাখা।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি স্থানীয় থানা পুলিশ ও সহকারী রিটানিং অফিসারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ওসি এবং উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং অফিসারের পদত্যাগ দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোশারফ হোসেন ছাড়াও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল ও জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে আত্মপক্ষ সমর্থন করে জামায়াত নেতারা বলেন, বিএনপির এমন অভিযোগ সঠিক নয়, পারশুন এলাকায় বিএনপির মিছিল থেকে তাদের নেতাকর্মীর উপর হামলা চালিয়ে দুই কর্মীকে আটকে রাখে বিএনপি কর্মীরা। হামলায় শিবির সাথী আব্দুল্লাহ হিল গালিবসহ তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন বলেও অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া শহর জামায়াতের আমীর ও বগুড়া-৬ (সদর) আসনের প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল, সেক্রেটারি আ স ম আব্দুল মালেক, সহকারী সেক্রেটারি মওলানা আব্দুল হাকিম, শ্রমিক নেতা আজগর আলী, শহর শিবিরের সভাপতি হাবিবুল্লাহ খন্দকার, আব্দুস ছালাম তুহিনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গুরুতর আহত মাসুদ রানার ছেলে কলেজছাত্র সিয়াম আকন্দ জানান, তানা পুলিশ উপস্থিত থাকাবস্থায় এমন হামলা ও তাণ্ডব ঘটনার দায় প্রশাসন কিছুতেই এড়াতে পারেনা। ভাইয়ের চোখ হারানোর সংবাদে মায়ের এমন মৃত্যু তারা মেনে নিতে পারছেন না। দ্রুততম সময়ের মধ্যে হুকুমদাতাসহ হামলায় জড়িত জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীর গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা হোক।

নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার শারমিন আরা জানান, আসামি গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। বড়ো কোনোরকম ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে তার কার্যালয় যথেষ্ট সজাগ রয়েছে। 

এদিকে, ৭ ফেব্রুয়ারি বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মীর শাহে আলমের পিরব ইউনিয়নের ‘সিহালী ফকিরপাড়া’ এলাকায় নির্বাচনি অফিস ভাঙচুর এবং হত্যার উদ্দেশ্যে অফিসের নৈশপ্রহরী আক্কাস আলীকে (৪০) মারধর ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে থানায় দায়েরকৃত অভিযোগের বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানান, আহত আক্কাস আলী হাসপাতাল থেকে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। সামগ্রিকভাবে বিষয়টি নিয়ে অদ্যাবধি তদন্ত চলমান। এই মুহূর্তে আসামি বা জড়িতদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

পিরব ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম জানান, পুলিশ তৎপর থাকলে এমন ঘটনা ঘটতে পারতো না। এখানে স্বাধীনতা বিরোধী একটি চক্র নানাভাবে ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করছে এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা গ্রহণযোগ্য নয়, এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা পুলিশের পক্ষে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া সেল) আতোয়ার রহমান ডেইলি সানকে জানান, থানা পুলিশ যেটাই করুক, আসামি ধরতে গতরাতে নন্দীগ্রামে ডিবি পুলিশ অভিযান পরিচালনা করেছে।  

আরও পড়ুন