EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষের দিকে

আজও প্রকাশ করা হয়নি উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাব

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম

আজও প্রকাশ করা হয়নি উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাব

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ প্রায় শেষের পথে হলেও এখনো উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। ২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব নেওয়ার দুই সপ্তাহের মাথায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারের সব উপদেষ্টার সম্পদের হিসাব প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এখন পর্যন্ত সেই তথ্য জনসমক্ষে আসেনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। পরবর্তীতে কয়েক দফায় নতুন উপদেষ্টা যুক্ত হন। সংযোজন-বিয়োজন শেষে বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সংখ্যা ২১ জন। এ ছাড়া উপদেষ্টা পদমর্যাদায় ৪ জন বিশেষ সহকারী, বিশেষ দূত ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রয়েছেন। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার ৪ বিশেষ সহকারী এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যানও দায়িত্ব পালন করছেন।

২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সব উপদেষ্টা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের আয় ও সম্পদের বিবরণ প্রকাশ করবেন। পর্যায়ক্রমে এটি সব সরকারি কর্মকর্তার জন্য নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক করা হবে বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ন্যায়পাল নিয়োগে অধ্যাদেশ প্রণয়নের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।

এর ধারাবাহিকতায় ১ অক্টোবর জারি করা হয় ‘অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালা, ২০২৪’। নীতিমালায় বলা হয়, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সর্বশেষ তারিখের পরবর্তী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে আয় ও সম্পদের বিবরণী জমা দিতে হবে। স্বামী বা স্ত্রীর পৃথক আয় থাকলে সেটিও অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা নিজ বিবেচনায় উপযুক্ত পদ্ধতিতে এসব বিবরণী প্রকাশ করবেন।

সম্পদের বিবরণী জমা পড়েছে, প্রকাশ হয়নি

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ উপদেষ্টাই তাদের সম্পদের বিবরণী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া এখনো চলমান আছে। আগের আয়কর বছরে সবাই রিটার্ন জমা দিয়েছিলেন।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘আমি বেশ আগেই জমা দিয়েছি।’ আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, তিনি গত বছর এবং এ বছরও বিবরণী জমা দিয়েছেন। খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার একই কথা বলেছেন।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানও জমা দিয়েছেন। এটি তিনি ফেসবুকেও জানিয়েছেন। গত ২৬ জানুয়ারি তিনি ফেসবুকে জানান, নীতিমালা অনুসারে তার ও তার স্ত্রীর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আয় ও সম্পদ বিবরণী মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের কার্যবিবরণীও দাখিল করা হয়েছে। এটি ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আয় ও সম্পদের বিবরণী। ২০২৫-২৬ অর্থবছর সমাপ্তির পর আবার আয় ও সম্পদ বিবরণী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে দাখিল করবেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা সম্পদের বিবরণী জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

একাধিকবার সময় বৃদ্ধির পর এখন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষ সময় ২৮ ফেব্রুয়ারি। আইনগতভাবে চলতি আয়কর বছরের সময় এখনো থাকলেও এর আগে একটি আয়কর বছর ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। আর বাস্তবতা হলো, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদও একেবারে শেষ প্রান্তে। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরপর দায়িত্ব নেবে নতুন সরকার।

এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, দুই অর্থবছরে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা প্রায় শেষ হলেও কেন এখনো উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি সরকার? গত বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক এ প্রশ্ন করেন। জবাবে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘আমরা আশা করছি, এটা অচিরেই দেখতে পাবেন। আমাদের সময় যখন শেষ হয়ে আসবে, তখন দেখতে পাবেন।’

আরও পড়ুন