পদ্মা সেতুর কিস্তি বকেয়া থাকার দাবি ভিত্তিহীন: সেতু কর্তৃপক্ষ
পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর ২৬ জুন ২০২২ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সেতু দিয়ে মোট ২ কোটি ৩৭ লাখ ৮১ হাজার ৫৬০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
পদ্মা সেতুর টোল আদায় সত্ত্বেও গত দেড় বছর ধরে ঋণের কিস্তি বকেয়া রয়েছে—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ)। একটি রাজনৈতিক দলের নেতার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ) এক বিবৃতিতে সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর ২৬ জুন ২০২২ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সেতু দিয়ে মোট ২ কোটি ৩৭ লাখ ৮১ হাজার ৫৬০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময়ে টোল আদায় হয়েছে ৩০৪৫ দশমিক ৭৩ কোটি টাকা।
আদায়কৃত টোল থেকে সরকারকে (অর্থ বিভাগ) মোট ২৫৮৮ দশমিক ৯৬ কোটি টাকা এবং সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও টোল আদায়কারী প্রতিষ্ঠানকে ৪১৪ দশমিক ৩৪ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। অর্থাৎ, এ পর্যন্ত টোল আয়ের ৩০০৩ দশমিক ৩০ কোটি টাকা নির্ধারিত খাতে ব্যয় করা হয়েছে।
ঋণের কিস্তি পরিশোধ প্রসঙ্গে বিবিএ জানায়, পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয়ের ঋণ পরিশোধের জন্য অর্থ বিভাগের সঙ্গে ৩৫ বছরের একটি চুক্তি রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি তিন মাসে একটি করে মোট ১৪০টি কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের জুনে ৮ম কিস্তি পরিশোধের পর ধারাবাহিকভাবে ৯ম থেকে ১৩তম কিস্তি এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ১৪তম কিস্তি পরিশোধ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ঋণের কিস্তি বাবদ মোট ২৫৮৮ দশমিক ৯৬ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। শুধু ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেড় বছরে ছয়টি কিস্তিতে পরিশোধ করা হয়েছে ১০৯৯ দশমিক ৩৫ কোটি টাকা।
সেতু কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, টোল থেকে আদায় করা অর্থ নিয়মিতভাবে ‘এ-চালান’-এর মাধ্যমে অনলাইনে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হচ্ছে। ফলে ‘দেড় বছর ধরে কিস্তি বকেয়া’ থাকার দাবি সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর।
বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই এ ধরনের বক্তব্য দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেয় এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। এ ধরনের ভিত্তিহীন দাবির তীব্র প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।