EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ব্যক্তিতান্ত্রিক শাসনের অবসানের জন্যই জুলাই সনদ: আলী রীয়াজ

ভবিষ্যতে যেন আর কোনো স্বৈরাচার জনগণের ওপর চেপে বসতে না পারে, সে লক্ষ্যেই জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে

ডেইলি সান রিপোর্ট, সিলেট

প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম

ব্যক্তিতান্ত্রিক শাসনের অবসানের জন্যই জুলাই সনদ: আলী রীয়াজ
অ অ

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরাচারের জাঁতাকলে নিষ্পেষিত জাতি ১৬ বছর মুক্তির প্রহর গুনেছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশ ফ্যাসিবাদের কবল থেকে আপাত মুক্তি পেলেও বিদ্যমান সংবিধানে স্বৈরাচার সৃষ্টির পথ রয়ে গেছে। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো স্বৈরাচার জনগণের ওপর চেপে বসতে না পারে, সে লক্ষ্যেই জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে।

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আসন্ন গণভোট ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আলী রীয়াজ বলেন, অনেকেই প্রশ্ন করেন ‘হ্যাঁ’-এর প্রার্থী কে? এর উত্তরে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’-এর প্রার্থী আমি, আপনি, আমরা সবাই। কারণ ‘হ্যাঁ’ একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথ খুলে দেবে।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের জাঁতাকলে নিষ্পেষিত এই জাতি আর কোনো স্বৈরশাসন বা দুঃশাসন চায় না। মানুষ একটি আলোকিত আগামী গড়তে চায়—যেখানে গুমের ভয় থাকবে না, গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তারের আতঙ্ক থাকবে না। যে দিনের স্বপ্ন দেখেছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা, যে দিনের জন্য জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে।

আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে এক অসাধারণ অর্জন। এই অভ্যুত্থান অপ্রত্যাশিতভাবে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে ইতোমধ্যে কিছু সংস্কার করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে তিনি বলেন, বিদ্যমান উদ্যোগের পাশাপাশি আরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী সংস্কার প্রয়োজন। সে কারণেই দেশের সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সরাসরি সম্মতি দরকার, আর সে উদ্দেশ্যেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধীদল যৌথভাবে কাজ করবে। ক্ষমতাসীনরা ইচ্ছেমতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না; গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য জনগণের অনুমোদন নিতে হবে। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হবেন। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে, ফলে বিচারের বাণী আর নীরবে কাঁদবে না।

তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সংবিধানের দুর্বলতাকে ব্যবহার করে ফ্যাসিবাদের পথে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলিমুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নিজাম উদ্দিন এবং হবিগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সায়েম উদ্দিন আহম্মদসহ অন্যান্যরা।

আরও পড়ুন