উপচেপড়া ভিড়ে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা
৩০তম আসরের বিদায়লগ্নে অফারের ছড়াছড়ি; ভিড়ে ঠাসা পূর্বাচল
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম
বাণিজ্য মেলার পর্দা নামার একদিন আগে আজ শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। ছবি: মাহমুদ জামান অভি
মাসের শুরু থেকেই বাণিজ্য মেলা ঘিরে যে উন্মাদনা ছিল, তা যেন শেষ দিনে এসে উৎসবে রূপ নিয়েছে। আগামীকাল শনিবার (৩১ জানুয়ারি) পর্দা নামছে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার।
সমাপনী দিনের আগের দিন আজ শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মেলা প্রাঙ্গণে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়ে মুখর ছিল পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্র।
আজ সকালে মেলা খোলার আগে থেকেই গেটের সামনে হাজারো মানুষের ভিড় জমে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে অসংখ্য মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় আসেন। শুধু কেনাকাটা নয়, কুয়াশাভেজা বিকেলে খোলামেলা পরিবেশে ঘুরে বেড়ানো আর শেষ মুহূর্তের সেলফি-আড্ডায় মেতেছিলেন তরুণ-তরুণীরা।

মেলার শেষ দিকে বরাবরই স্টলগুলোতে বিশেষ ছাড় ও অফারের ছড়াছড়ি থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ঘর সাজানোর আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিকস পণ্য এবং প্লাস্টিক সামগ্রীর স্টলগুলোতে ছিল ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। অনেক প্রতিষ্ঠান ‘আখেরি অফার’ হিসেবে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় ঘোষণা করেছে।
গৃহিণী শামীমা আক্তার জানান, ‘মেলার শুরুর দিকে একবার এসেছিলাম শুধু যাচাই করতে। আজ শেষ মুহূর্তের ছাড় পেয়ে ডিনার সেট আর ঘর সাজানোর কিছু জিনিস কিনলাম। ভিড় অনেক বেশি হলেও কেনাকাটা করে তৃপ্তি পাচ্ছি।’
বিক্রেতারা জানান, ছুটির দিন হওয়ায় আজ বিক্রি হয়েছে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। অনেক স্টলে বিকেলের আগেই স্টকে থাকা মাল ফুরিয়ে যেতে দেখা গেছে। প্যাভিলিয়ন ইনচার্জরা জানিয়েছেন, সমাপনী দিনে মানুষের চাপ আরও বাড়বে, তাই আজ রাতেই নতুন করে মালামাল মজুত করা হচ্ছে।
মেলা আয়োজক কমিটি (রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো- ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে, এবারের মেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যা গত বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। যাতায়াতের জন্য বিশেষ বিআরটিসি বাসের সংখ্যা বাড়িয়েও সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছিল দুপুরের পর থেকে।
দীর্ঘ এক মাস পর আগামীকাল ৩১ জানুয়ারি পর্দা নামবে এই মিলনমেলার। সমাপনী অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠ প্যাভিলিয়ন ও স্টলগুলোকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হবে। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের মুখেই এখন শেষ দিনের তৃপ্তি আর বিদায়ের সুর।