EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

যুব ও নারীর অংশগ্রহণে গণতান্ত্রিক ভিত্তি জোরদারে ঢাকায় বিভাগীয় সংলাপ

ঢাকা বিভাগের এ সংলাপটি দেশের আট বিভাগের ধারাবাহিক সংলাপ আয়োজনের অংশ

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৮ এএম

যুব ও নারীর অংশগ্রহণে গণতান্ত্রিক ভিত্তি জোরদারে ঢাকায় বিভাগীয় সংলাপ
অ অ

রাজধানীতে আয়োজিত এক সংলাপে যুব ও নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ‘ইনক্লুসিভ সিভিক অ্যান্ড ডেমোক্রেটিক এনগেজমেন্ট’ শীর্ষক এ বিভাগীয় সংলাপে নাগরিক ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণে তরুণ ও নারীদের নেতৃত্বের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসির সহায়তায় জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের বাস্তবায়নে পরিচালিত এএইচইএডি বাংলাদেশ প্রকল্পের আওতায় ‘একান্নর জাগরণ (দ্য রাইজ অব ৫১)’ উদ্যোগে সংলাপটির আয়োজন করা হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

ঢাকা বিভাগের এ সংলাপটি দেশের আট বিভাগের ধারাবাহিক সংলাপ আয়োজনের অংশ। এর লক্ষ্য জাতীয় পর্যায়ের গণতান্ত্রিক অঙ্গীকারের সঙ্গে স্থানীয় বাস্তবতার সেতুবন্ধন তৈরি এবং তৃণমূল পর্যায়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নাগরিক চর্চা জোরদার করা।

সংলাপে রাজনৈতিক দল, সরকারি প্রতিষ্ঠান, সুশীল সমাজ, যুব সংগঠন ও নারী নেতারা অংশ নেন। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও অংশগ্রহণমূলক সংস্কৃতিকে সুস্থ গণতন্ত্রের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে অংশগ্রহণকারীরা উন্মুক্ত আলোচনা, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আস্থা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন।

আলোচনায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, নাগরিক অধিকার ও দায়িত্ব, নির্বাচনে অংশগ্রহণ, ভুয়া তথ্য মোকাবিলা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যুব ও নারীর অর্থবহ নেতৃত্ব নিশ্চিত করার বিষয়গুলো উঠে আসে। পাশাপাশি এএইচইএডি বাংলাদেশ প্রকল্পের আওতায় চলমান নাগরিক ও ভোটার শিক্ষা কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরা হয় এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রম জোরদারে অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও সুপারিশ নেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানের মূল পর্ব ছিল একটি প্যানেল আলোচনা। এতে অন্তর্ভুক্তিমূলক নাগরিক অংশগ্রহণ, নির্বাচনী স্বচ্ছতা, তথ্যভিত্তিক ভোটার অংশগ্রহণ, নারী ভোটারদের নিরাপত্তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিয়ে আলোচনা হয়। প্যানেলটি সঞ্চালনা করেন ইনোভিশন কনসালটিংয়ের পোর্টফোলিও ডিরেক্টর তাসমিয়া তাবাসসুম রহমান।

আলোচনায় বিএনপির নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্য নাহরিন ইসলাম খান বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আস্থা বজায় রাখতে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধ জরুরি। তিনি বলেন, তরুণ ভোটারদের তথ্যভিত্তিক অংশগ্রহণই শক্তিশালী গণতন্ত্রের ভিত্তি।

তিনি আরও বলেন, নারীদের অংশগ্রহণ যেন শুধু প্রতীকী না হয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব স্তরে তা নিশ্চিত করতে হবে। দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ নারী, যাদের সচেতন ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

জামায়াতে ইসলামীর নারী শাখার সদস্য ও সম্মিলিত নারী প্রয়াসের সম্পাদক ফেরদৌস আরা খানম বলেন, ভোটাধিকার প্রয়োগে নারীদের নিরাপত্তা ও চলাচলের স্বাধীনতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। নিরাপদ ভোট পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, টেকসই গণতন্ত্রের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি জোরদার করা জরুরি। যুব ও নারীরা তখনই ক্ষমতায়িত হবেন, যখন তারা নিরাপদে মত প্রকাশ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতে পারবেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশে ইইউ প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, গণতন্ত্রে অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের সংলাপের মাধ্যমে নারী ও তরুণদের—বিশেষ করে প্রথমবারের ভোটারদের—গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ গঠনে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের শেষাংশে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এ সংলাপ যুব ও নারীদের দৃশ্যমানতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বোঝাপড়া তৈরি করেছে। সংলাপ থেকে পাওয়া সুপারিশগুলো ভবিষ্যৎ নাগরিক ও ভোটার শিক্ষা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। 

আরও পড়ুন