EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

জামিনে বেরিয়ে হত্যা মামলা প্রত্যাহারের হুমকি, থানায় লিখিত অভিযোগ

ডেইলি সান রিপোর্ট, রংপুর

প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম

জামিনে বেরিয়ে হত্যা মামলা প্রত্যাহারের হুমকি, থানায় লিখিত অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

রংপুরের তারাগঞ্জে আলোচিত রূপলাল ও প্রদীপ লাল হত্যা মামলার এক আসামি জামিনে মুক্ত হয়ে মামলা প্রত্যাহারের জন্য বাদীকে হুমকি দিচ্ছেন—এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

এ ঘটনায় নিহত রূপলালের স্ত্রী ভারতী রানী সোমবার (২৬ জানুয়ারি) তারাগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

থানা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৯ আগস্ট রাতে মিঠাপুকুর উপজেলার ছড়ান বালুয়া এলাকা থেকে ভ্যান নিয়ে তারাগঞ্জ উপজেলার ঘনিরামপুর গ্রামে রূপলালের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন প্রদীপ লাল। পথ ভুলে গেলে তাকে আনতে যান রূপলাল। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারা সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা মোড়ে পৌঁছালে চোর সন্দেহে স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করেন। পরে দফায় দফায় মারধরের একপর্যায়ে রূপলাল ও প্রদীপ লালের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় পরদিন ১০ আগস্ট নিহত রূপলালের স্ত্রী ভারতী রানী বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা প্রায় ৭০০ জনকে আসামি করা হয়।

থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে ভারতী রানী (৩৬) উল্লেখ করেন, পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। তাদের মধ্যে মো. রুবেল পাইকার (৩০) জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর গত ২২ জানুয়ারি তারাগঞ্জ বাজারে ভারতী রানী ও তার ছেলে জয় দাসকে দেখে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেন।

অভিযোগে বলা হয়, মামলা প্রত্যাহারে অসম্মতি জানালে রুবেল পাইকার অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তুলে নিয়ে গিয়ে প্রাণে হত্যার হুমকি দেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নিহত রূপলালের স্ত্রী ভারতী রানী বলেন, ‘ন্যায়বিচারের আশায় মামলা করেছিলাম। এখন আমাকে ও আমার সন্তানকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমার ছেলে দোকান করে সংসার চালায়, কিন্তু এখন সে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। আমরা খুব অসহায় হয়ে পড়েছি। প্রাণ বাঁচানোর তাগিদেই থানায় অভিযোগ করেছি।’

নিহত রূপলালের ছেলে জয় দাস বলেন, ‘আমার বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ভিডিওতে স্পষ্টভাবে রুবেল পাইকার ও সোহাগকে দেখা যায়। সোহাগ প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং লোকজন দিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। অথচ পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করছে না। প্রশাসনের কাছে আমাদের অনুরোধ—আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক এবং বাবার হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনা হোক।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. রুবেল পাইকার বলেন, ‘এই মামলায় প্রায় ৭০০ জন আসামি। আমরা দুজন গিয়ে মামলা তুলে নিতে বলব—এমন কোনো কারণ নেই। এসব সাজানো অভিযোগ। আমি তাকে চিনি না, কখনো তার বাড়িতেও যাইনি।’

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তারাগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার এসআই প্রদীপ কুমার বর্মণ বলেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে।

তারাগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি বর্তমানে আদালতে আছি। রূপলালের স্ত্রী আমাকে ফোন করেছিলেন। তিনি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নই।’

আরও পড়ুন