শব্দদূষণ কমানোর দায়িত্ব আমাদের সকলের: পরিবেশ উপদেষ্টা
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:১৭ পিএম
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, শব্দদূষণ কমানোর দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়—এটি আমাদের সবার। অকারণে হর্ন বাজানো একটি বদভ্যাস, যা এখনই পরিবর্তন করতে হবে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিমানবন্দর এলাকায় ‘ঘোষিত নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো নিরুৎসাহিতকরণ কর্মসূচি’ উপলক্ষে আয়োজিত জনসচেতনতামূলক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর, ডিএমপি, বিআরটিএ, ডিএনসিসি ও সিভিল এভিয়েশনের সমন্বিত অভিযানে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা বলেন, প্রাথমিকভাবে হর্ন ব্যবহারের ওপরই জোর দেওয়া হচ্ছে। কোনো অজুহাতেই হর্ন বাজানো যাবে না। অন্যান্য আইন ভঙ্গের মতোই ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে হর্ন ব্যবহারের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি জানান, ‘শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং পুলিশকে এ কাজে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে তরুণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে মাঠপর্যায়ে যুক্ত করেছে।
তিনি আরও বলেন, সিভিল এভিয়েশন ভলান্টিয়ারদের সহায়তায় বিমানবন্দরের ঘোষিত নীরব এলাকায় হর্ন বন্ধে কার্যক্রম শুরু করতে পারে। বিমানবন্দর এলাকা হর্নমুক্ত করে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সম্ভব।
উপদেষ্টা জানান, উচ্চ শব্দের কারণে ঢাকায় প্রায় ৬৫ শতাংশ চালকের শ্রবণক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত। শিশুদের জন্য স্কুলে যাতায়াতের সময় হর্নের শব্দ অত্যন্ত অস্বস্তিকর। তাই জাতিগতভাবে সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদেরও স্বপ্রণোদিত হয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সারোয়ার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।