EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

নতুন পে স্কেলের প্রতিবেদন পেশ, সুপারিশে যা আছে

টিফিন ভাতা ২০০ থেকে ১ হাজারে উন্নীত করার সুপারিশ, প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে বিশেষ ভাতা পাবেন সরকারি কর্মচারীরা, একটি কমিটি গঠন করা হবে যারা বেতন নিয়ে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করবে

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম

নতুন পে স্কেলের প্রতিবেদন পেশ, সুপারিশে যা আছে

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

নির্ধারিত সময়ের তিন সপ্তাহ আগেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে নবম জাতীয় বেতন কমিশন।

২৩ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিশনের প্রধান জাকির আহমেদ খান বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই প্রতিবেদন পেশ করেন।

এ সময় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী, অর্থ সচিব খায়রুজ্জামান মজুমদারসহ কমিশনের সব পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টা প্রতিবেদন গ্রহণ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। এ সময় তিনি বলেন, ‘এটি একটি মস্ত বড়ো কাজ। মানুষ বহুদিন ধরে এর জন্য অপেক্ষা করছে। আউটলাইন দেখে বুঝলাম, এটি খুবই সৃজনশীল কাজ হয়েছে।’

এ সময় কমিশন প্রধান বলেন, গত এক দশকে বৈশ্বিক ও জাতীয় পর্যায়ে অর্থনীতির প্রায় সব সূচকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সময়োপযোগী ও যথাযথ বেতন কাঠামো নির্ধারণ না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সুস্পষ্ট কার্যপরিধি (Terms of Reference) নির্ধারণপূর্বক বিদ্যমান বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে কমিশন কাজ করে।

প্রস্তাবিত নতুন বেতন স্কেলের সর্বনিম্ন বেতন হবে, ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং অনুপাত ১:৮। আজ প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া প্রস্তাবিত পে স্কেলে এমনটাই সুপারিশ করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রথম বেতন কমিশনে (১৯৭৩) সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন অনুপাত যেখানে ছিল ১:১৫.৪, সেখানে পূর্ববর্তী অর্থাৎ সর্বশেষ বেতন কমিশনে (২০১৫) তা ছিল ১:৯.৪। বর্তমান জাতীয় বেতন কমিশন (২০২৫) বিগত সময় থেকে অনেক কম অনুপাত (১:৮) সুপারিশ করছে, যা সর্বকালের মধ্যে সর্বনিম্ন।

প্রস্তাবিত পে স্কেলে বলা হয়, বর্তমানে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কর্মরত ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা ও বাড়িভাড়া-ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে সর্বমোট বেতন-ভাতা হয় ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা। প্রস্তাবিত বেতনস্কেল অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডের উল্লিখিত কর্মচারীর মূল বেতন (২০ হাজার টাকা) ও ভাতা মিলে সর্বমোট বেতন-ভাতা হবে ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা। 

একইভাবে ১৯তম গ্রেড থেকে ১নং গ্রেড পর্যন্ত ভাতা অনেক বৃদ্ধি পাবে; তবে, যুক্তিসংগত বিবেচনা ও সমতা বিধানের স্বার্থে এই বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে কম হবে। কিছু কিছু ভাতা আছে যা ১০ম বা ১১তম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা পেয়ে থাকেন। যেমন- যাতায়াত ভাতা, টিফিন ভাতা, ধোলাই ভাতা, ঝুঁকিভাতা (যার যার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)। 

তা ছাড়া এই ভাতা বৃদ্ধির হারের ক্ষেত্রে, গাড়ি সেবা, নগদায়ন (৫ম গ্রেড থেকে তদর্ধ্ব) ভাতা বিবেচনায় আনা হয়নি। এজন্য শতকরা হারে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের ভাতা বৃদ্ধির হার কম পরিলক্ষিত হবে। ৬.২৪.১ প্রস্তাবিত নতুন বেতনস্কেল কার্যকর হবার তারিখ থেকে বর্তমানে প্রদত্ত ১০ শতাংশ এবং ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতা প্রচলিত নিয়মে সমন্বয় করা যেতে পারে বলে সুপারিশ করা হয়।

প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, নির্ধারিত কার্যপরিধি অনুসরণ করে সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত সুপারিশ প্রণয়নের উদ্দেশ্যে কমিশন বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে অনলাইন ও অফলাইনে ১৮৪টি সভা করে এবং ২ হাজার ৫৫২ জনের মতামত ও প্রস্তাব গ্রহণ করে। পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি ও অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা সভার আয়োজন করে ব্যাপক মতবিনিময় করা হয়।

কমিশনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আর্থিক সংস্থান নির্ধারণ এবং এর বাস্তবায়নযোগ্যতা পর্যালোচনা করা।

প্রতিবেদন দাখিল কালে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এই প্রস্তাব বাস্তবায়নই এখন পরবর্তী কাজ। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হবে, যে কমিটি বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করবে।

কমিশন সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০টি স্কেলে বেতন সুপারিশ করে। সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে, এবং সর্বোচ্চ বেতন স্কেল ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ, ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিশন প্রধান জানান, প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে এক লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের ব্যয় হচ্ছে এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

কমিশনের প্রতিবেদনে নতুন নতুন প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে- সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা প্রবর্তন, পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার, সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড পুনর্গঠন, সার্ভিস কমিশন গঠন, বেতন গ্রেড ও স্কেলের যৌক্তিক পুনর্বিন্যাস; সরকারি দপ্তরসমূহে ভাতাসমূহ পর্যালোচনার জন্য কমিটি গঠন এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে মানবসম্পদ উন্নয়ন।

প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, কোনো কর্মচারীর প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে, বেতন কমিশন সংশ্লিষ্ট মাসিক ২ হাজার টাকা ভাতা প্রদানের সুপারিশ করেছে, শর্ত থাকে যে, সব ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ দু’জন সন্তান এই সুবিধা পাবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, টিফিন ভাতার বর্তমানে প্রচলিত বিধানাবলি অব্যাহত থাকবে, তবে কমিশন ভাতার হার বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বর্তমানে প্রচলিত মাসিক টিফিন ভাতা ২০০ টাকার স্থলে ১ হাজার টাকা করা যেতে পারে।

তথ্যমতে, গত ২৭ জুলাই ২০২৫ তারিখে সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে এবং ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করে। ২০১৩ সালে অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের পর দীর্ঘ ১২ বছর পর এই কমিশন গঠিত হয়। 

কমিশনের প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত শেষ তারিখ ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। কমিশন তাদের জন্য নির্ধারিত বাজেটের মাত্র ১৮ শতাংশ ব্যয়ে প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।

আরও পড়ুন