মাদ্রাসাশিক্ষার্থী হত্যার অভিযোগ, বিচারের দাবিতে মানববন্ধন
দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান বক্তারা
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৫০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকার একটি মাদ্রাসার ৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মো. মোদ্দাসসিরকে হত্যার অভিযোগে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নিহত শিশুটির পরিবার, স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে এ মানববন্ধন আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। বক্তারা বলেন, মোদ্দাসসির কুতুবখালী রোডে অবস্থিত মাদরাসাতুল ইতক্বান লি উলূমিল কোরআন–এর শিক্ষার্থী ছিল। তারা দাবি করেন, শিশুটির গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং সে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর উদ্দেশ্যে তার মরদেহ মাদরাসার ওয়াশরুমে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
বক্তারা প্রশ্ন তুলে বলেন, এত অল্প বয়সের একটি শিশু আত্মহত্যার মতো বিষয় কীভাবে বুঝতে পারে। তারা এ ঘটনাকে নির্মম ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
মানববন্ধনে নিহতের বাবা জিয়াউর রহমান বলেন,“আমার ছেলের হাতে আজ কোরআন থাকার কথা ছিল। সেই ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই। দোষীরা যেন কোনোভাবেই ছাড় না পায়।”
এ সময় বক্তারা মাদ্রাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি জোরদার করার আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন নিহতের মা মাকিয়া সুলতানা, ভাই খায়রুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, মানবাধিকারকর্মী সাইফুল ইসলাম এবং মাওলানা মুফতি যুবাইর আহম্মেদসহ অন্যান্যরা।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘শিশু হত্যার বিচার চাই’, ‘দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করো’—এমন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করেন।
এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাজু বলেন,“নিহত শিশুটির বাবা কয়েকজন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেছেন। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, গত ২০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করলেও নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করা হয়।