জাতীয় করির সমাধির পাশে শহীদ হাদির দাফন সম্পন্ন
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৫১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে সমাহিত হলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে জাতীয় কবির পাশে হাদিকে সমাহিত করা হয়।
এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হাদির জানাজা সম্পন্ন হয়। দুপুর ২টা ৩৩ মিনিটে অনুষ্ঠিত জানাজায় সারাদেশ থেকে বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার হাজারো মানুষের উপস্থিত হন।
জানাজা শেষে দুপুর ৩টার দিকে হাদির মরদেহ বহনকারী গাড়ি ঢাবির কেন্দ্রীয় মসজিদ এলাকায় নিয়ে আসা হয়। হাদির জানাজার নামাজ পড়ান তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। এসময় পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
শরিফ ওসমান হাদি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের একজন সম্মুখ সারির নেতা ছিলেন। তিনি ‘ইনকিলাব মঞ্চের’ মুখপাত্র ছিলেন এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকা অন্তর্ভুক্ত ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করছিলেন।
এর আগে গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) নির্বাচনী প্রচারণাকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত একটি মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সবশেষ সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার তার মরদেহ ঢাকায় আনা হয়।
সর্বশেষ আপডেট জানতে ডেইলি সানের লাইভ কাভারেজ অনুসরণ করুন...............
জাতীয় করির সমাধির পাশে শহীদ হাদির দাফন সম্পন্ন
ঢাবিতে জাতীয় করি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে শহীদ হাদিকে সমাহিত করা হয়েছে।
বিস্তারিত আসছে......
শহীদ ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত
জনসমুদ্রে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার নামাজে জানাজার আয়োজন করা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও বিভিন্ন রাজনীতিবিদসহ সমাজের সকল স্তরের মানুষ এই জানাজায় উপস্থিত হয়েছেন। শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও অসংখ্য মানুষ হাদির শেষ বিদায়ে অংশ নিতে ঢাকায় ছুটে আসেন।
প্রথম জানাজায় ওঠে রব হাদি হাদি হাদি। হাদির জানাজায় অংশ নেওয়া মানুষের অশ্রুসিক্ত চোখে-মুখে ছিলো দ্রোহ ও হাহাকারের প্রতিচ্ছবি।
রাজশাহী থেকে আসা জুলাই যোদ্ধা মনজুর হোসেন জানান, তিনি রাতে রাজশাহী থেকে মিরপুরে মামার বাসায় অবস্থান নেন। সকালে মেট্রোরেলে রওনা দিলেও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে এখনো ট্রেনে উঠতে পারেননি। নির্ধারিত সময়ে জানাজায় পৌঁছাতে পারবেন কি না, সে বিষয়েও তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।
অন্য দিকে মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা বিএনপি কর্মী সুমন মিয়া বলেন, শুধু জানাজায় অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি গত রাতে মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় আত্মীয়ের বাসায় ওঠেন। তার ভাষায়, এমন একজন দেশপ্রেমিক মানুষের জানাজায় অংশ নিতে পারা ভাগ্যের বিষয়। তবে মেট্রো পাস না থাকায় এবং অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে জানাজায় পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তার কথাও জানান তিনি।
খুনিরা ধরা না পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ হাদির বড় ভাইয়ের
শহীদ ওসমান হাদির জানাজা নামাজে অংশ নিয়ে তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সাত-আট দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো খুনিরা ধরা পড়েনি।
‘যদি তারা পার পেয়ে যায়, সীমান্ত পার হয়ে যায়—এটা হবে আমাদের জন্য চরম লজ্জার,’ বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। হাদির শহীদি তামান্না ছিল—হয়তো আল্লাহ তা কবুল করেছেন। কিন্তু আমি ছাড়বো না। বিচার এই বাংলার জমিনেই হতে হবে।’
শেষে তিনি বলেন, ‘হাদি, তুমি মরো নাই—তুমি আমাদের পাগল বানিয়ে গেছো। আল্লাহ যেন হাদিকে কবুল করেন। আমাদের পরিবারের জন্য সবাই দোয়া করবেন।’
সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নেওয়া হয়েছে হাদির মরদেহ
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত শেষে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির মরদেহ জানাজার জন্য জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আনা হয়েছে। ওসমান হাদির জানাজা পড়াবেন তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার কিছু আগে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘর থেকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দীর মর্গে নেওয়া হয়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আনা হয়।
মরদেহ নিয়ে আসার সময় হাদির পরিবারের সদস্য, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। মরদেহ বহনের সময় পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সহিংসতা এড়িয়ে চলার আহ্বান, ঢাবিতে জড়ো হওয়ার নির্দেশ: জাবের
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের সকলকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে জানাজা নামাজে অংশ নিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, জানাজা শেষে সবাইকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জড়ো হতে হবে, সেখান থেকেই পরবর্তী কর্মসূচি ও করণীয় জানানো হবে।
সিভিল-মিলিটারি গোয়েন্দা সংস্থায় লুকিয়ে থাকা চরদের চিহ্নিত করতে: জাবের
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ-আল জাবের বলেন, সিভিল ও মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের ভেতরে ঘাপটি মেরে বসে থাকা চরদের চিহ্নিত করতে হবে।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে জানাজা নামাজে অংশ নিয়ে তিনি এই কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার নামে যারা অপরাধীদের রক্ষা করছে, তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
হাদী হত্যাকাণ্ডে একজন নয়, পুরো চক্র জড়িত: আবদুল্লাহ জাবের
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ-আল জাবের বলেছেন, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে একজন ব্যক্তি নয়, একটি পুরো চক্র কাজ করেছে।
তিনি বলেন, খুনের পরিকল্পনাকারী, সহায়তাকারী এবং সরাসরি জড়িত সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে জানাজা নামাজে অংশ নিয়ে তিনি এই কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও তার বিশেষ সহকারী খোদা বকসকে জানাতে হবে—এ ঘটনায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তাদের পদত্যাগ করতে হবে।
একনজর হাদির কবরস্থান দেখতে জনতার ভিড়
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই বিপ্লবী শহীদ শরিফ ওসমান হাদির চিরনিদ্রার স্থান নির্ধারণকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকাবহ আবহ বিরাজ করছে। তাকে দাফনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সমাধির পাশেই কবরস্থানের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই কবি নজরুলের সমাধির সামনে হাদির নির্ধারিত কবরস্থান একনজর দেখার জন্য উৎসুক মানুষের ভিড় লক্ষ করা যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফেরদৌস রহমান বলেন, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি শুধু একজন জুলাই যোদ্ধা নন, তিনি আমাদের প্রজন্মের সাহস ও প্রতিবাদের প্রতীক। তিনি বিদ্রোহী, তার লাশটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দাফন হবে। যুগে যুগে মানুষ তাকে স্মরণ করবে এবং অনুপ্রাণিত হবে। এই জায়গা আমাদের জন্য সাহস, আবেগ ও স্মৃতির অংশ হয়ে থাকবে।
হাদির আধিপত্যবাদবিরোধী-ইনসাফভিত্তিক সমাজের স্বপ্ন পূরণের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার
শহীদ ওসমান হাদি যে আধিপত্যবাদবিরোধী ও ইনসাফভিত্তিক সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা যেন পূর্ণতা পায়—এমন আহ্বান জানিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা অধ্যাপক আ ফ ম খালিদ শরীফ।
শনিবার জানাজা পূর্ব মুহূর্তে ওসমান হাদির জীবনী পাঠকালে তিনি এ কথা বলেন।
জানাজায় অংশ নিতে দক্ষিণ প্লাজায় প্রধান উপদেষ্টা
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই বিপ্লবী শরিফ ওসমান হাদির জানাজায় অংশ নিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সংসদ ভবন এলকার দক্ষিণ প্লাজায় পৌঁছেছেন।
এ সময় তার সঙ্গে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত হয়েছেন।
স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই বিপ্লবী শরিফ ওসমান হাদির জানাজায় অংশ নিতে সকাল থেকেই জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ঢল নামতে শুরু করে মানুষের। এরই মধ্যে স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হচ্ছে পুরো এলাকা।
দুপুর সাড়ে ১২টায় দেখা যায় কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে মানিক মিয়া এভিনিউ। এখনো আসছেন হাজারও মানুষ।
মিছিল নিয়ে প্রবেশ করছেন অনেকেই। সবার মুখেই স্লোগান— ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো’, ‘আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক হাদির জানাজায় অংশ নিতে নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছেন মিজানুর রহমান। তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আমাদের হাদির জানাজায় অংশ নিতে সকালেই এসেছি। তাকে গুলি করার পর থেকেই রাতে ঘুমাতে পারছি না। আল্লাহর কাছে তার জন্য সবসময় দোয়া করি। তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুক।