ওসমান হাদির অবস্থা এখনো অত্যন্ত ‘আশঙ্কাজনক’: মেডিকেল বোর্ড
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:১৬ পিএম
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি/ ছবি সংগৃহীত
গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চিকিৎসাধীন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির অবস্থা এখনো অত্যন্ত ‘আশঙ্কাজনক’ বলে জানিয়েছে তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউ অ্যান্ড এইচডিইউর সিনিয়র কনসালটেন্ট ও কো-অর্ডিনেটর ডা. মো. জাফর ইকবালের পাঠানো বার্তায় বলা হয়েছে, সেখানে হাদির চিকিৎসায় বিভিন্ন বিভাগের ১৩ জন চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
হাদির বর্তমান অবস্থার বিষয়ে বার্তায় বলা হয়েছে, তার মস্তিষ্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যেহেতু অস্ত্রোপচার হয়েছে, সেহেতু এখন কনজারভেটিভভাবে ম্যানেজ করতে হবে। ব্রেইন প্রটেকশন প্রটোকল অনুসরণ করে অন্যান্য সব সাপোর্ট চালিয়ে যেতে হবে। যদি অবস্থা একটু স্থিতিশীল হয়, তাহলে মস্তিষ্কে আবার সিটি স্ক্যান করানো যেতে পারে।
‘ব্রেইন স্টেমে’ আঘাতের কারণে রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন ওঠানামা করছে জানিয়ে বার্তায় বলা হয়, রক্তচাপের জন্য সাপোর্ট যেভাবে দেওয়া আছে, সেটা সেভাবেই চলবে। যদি হৃদস্পন্দন কমে যায়, তাহলে সাময়িকভাবে পেস মেকার লাগানোর একটি দল প্রস্তুত আছে, সেটা লাগানো হবে।
হাদির ফুসফুসে আঘাত আছে ও ‘চেস্ট ড্রেইন টিউবে’ অল্প রক্ত আসছে বলেও মেডিকেল বোর্ডের বার্তায় বলা হয়।
‘ফুসফুসে সংক্রমণ’ ও ‘এআরডিএস’ যেন ডেভলপ না করে, সেদিকে খেয়াল রেখে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
বার্তায় বলা হয়, ওসমান হাদির কিডনির কার্যক্ষমতা ফেরত এসেছে, সেটাকে ধরে রাখার জন্য ‘ফ্লুইড ব্যালেন্স’ যেভাবে ঠিক রাখা হচ্ছে, সেভাবেই চালিয়ে যেতে হবে।
হাদির শরীরে রক্ত জমাট বাধা ও রক্তক্ষরণ হওয়ার মধ্যে যে ‘অসামঞ্জস্যতা’ দেখা দিয়েছিল (ডিআইসি) সেটা অনেকটাই ঠিক হয়ে আসছে জানিয়ে বোর্ড বলছে, ‘এটাকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করে রক্ত ও রক্তের বিভিন্ন উপাদান ট্রানফিউস করতে হবে।’
এর বাইরে তার চিকিৎসা শুরু করা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট সকলে ‘হিরোইক’ কাজ করেছেন জানিয়ে তাদের ধন্যবাদ দিয়েছে এই বোর্ড।
উল্লেখ্য, শুক্রবার দুপুরে ঢাকার বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। চলন্ত অটোরিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী। গুলিটি লাগে তার মাথায়। হাদিকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে এক দফা অস্ত্রোপচারের পর তাকে নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে।