পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি চলছে
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ছয় সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:১৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর অংশবিশেষ বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদনের ওপর আজ চতুর্থ দিনের মতো শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ছয় সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
গতকালের শুনানিতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া মত দেন যে পদ্ধতিগত ত্রুটি, বিষয়বস্তু ও উদ্দেশ্যের কারণে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন সম্পূর্ণরূপে বাতিল হওয়া উচিত।
তবে বিকল্প হিসেবে তিনি বলেন, সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে আপিল বিভাগ ন্যায়বিচারের স্বার্থে সংশোধনীর কিছু বিধান সুরক্ষার জন্য ‘মার্জনা’ করতে পারে।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানিতে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার ব্যক্তির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া রবিবার এই আরজি উপস্থাপন করেন।
পরে আপিল বিভাগ শুনানি গ্রহণ করে এবং আজকের দিনটিকে পরবর্তী শুনানির জন্য নির্ধারণ করে। শুনানিতে শরীফ ভূঁইয়ার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী কারিশমা জাহান ও বিদুয়ানুল করিম।
এর আগে গত ৩ ডিসেম্বর থেকে আপিল শুনানি শুরু হয়। ধারাবাহিকভাবে বৃহস্পতিবার ও রবিবারও শুনানি অনুষ্ঠিত হয়, যার ধারাবাহিকতায় আজকের দিনও শুনানির জন্য রাখা হয়েছে।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর পৃথক দুটি রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীর অংশবিশেষ অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা করেন। এরও ১৪ বছর আগে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ একাধিক বিষয়ে পরিবর্তন এনে ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনী আইন জাতীয় সংসদে পাস করে।
রায়ের ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরার সম্ভাবনা দেখা দিলেও কিছু জটিলতা থাকার যুক্তিতে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক আপিল করা হয়।
সুজন সম্পাদকসহ চার ব্যক্তি একটি আপিল করেন, নওগাঁর মো. মোফাজ্জল হোসেন আরেকটি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও পৃথক একটি আপিল আবেদন করে। আপিল তিনটি কার্যতালিকায় এলে সুজন সম্পাদকদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া শুনানি করেন। তিনি হাইকোর্টের রায় ও পঞ্চদশ সংশোধনীর বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপ ছাড়াও সংবিধানে মোট ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। জুলাই অভ্যুত্থানের পর এ সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে দুটি রিট করা হয়—একটি সুজনের পক্ষ থেকে এবং অন্যটি মোফাজ্জল হোসেনের পক্ষ থেকে।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর দেওয়া হাইকোর্টের রায়ে পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা এবং সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত ৭ (ক), ৭(খ) ও ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়। একই রায়ে গণভোটসংক্রান্ত ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয় এবং সংশোধনীর বাকি অংশ সংসদীয় সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ বছরের ৮ জুলাই হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, এম হাফিজ উদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান লিভ টু আপিল করেন। নওগাঁর মোফাজ্জল হোসেন ও জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ারও পৃথক আপিল আবেদন করেন। ১৩ নভেম্বর আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল মঞ্জুর করার পর তিনটি আপিল মামলাই শুনানিতে ওঠে।
এ মামলায় ইন্টারভেনার হিসেবে যুক্ত হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গণফোরামের নেতা সুব্রত চৌধুরী, বার কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান মো. রুহুল কুদ্দুস এবং সেন্টার ফর ল গভর্ন্যান্স অ্যান্ড পলিসি নামে একটি সংগঠন।
২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হওয়া পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পাশাপাশি শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা, ধর্মনিরপেক্ষতা পুনর্বহাল, রাষ্ট্রীয় মূলনীতি সংশোধন এবং রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকে রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়। এছাড়া নির্বাচনকালীন ৯০ দিনের বিধান পূর্ববর্তী সময়ে সরানোর পরিবর্তনও আনা হয়েছিল।