প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম
ভবন নির্মাণে রাজউকের ত্রুটি অতীতে ছিল, দায় এড়াতে পারে না
নকশা অনুমোদন ও তদারকির কাজ একই সংস্থা করলে কার্যকর নজরদারি কঠিন হয়ে পড়ে। তদারকি অন্য সংস্থায় দিলে তা আরও যৌক্তিক হবে
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৪৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নগর পরিকল্পনা ও ভবন নির্মাণে রাজউকের ত্রুটি ও বিচ্যুতি অতীতে ছিল, এর দায় রাজউক এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, দুর্নীতি ও ত্রুটিপূর্ণ ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে রাজউকের অবস্থান এখন সম্পূর্ণ জিরো টলারেন্স।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজিত ‘ভবন মালিকদের দায়িত্বশীলতাই ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পারে’ শীর্ষক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
তিনি বলেন, নগর পরিকল্পনা ও ভবন নির্মাণে রাজউকের ত্রুটি ও বিচ্যুতি অতীতে ছিল এবং এর দায় রাজউক এড়াতে পারে না। দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা, মামলা এবং কারাদণ্ডসহ কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, ‘নকশা অনুমোদন ও তদারকির কাজ একই সংস্থা করলে কার্যকর নজরদারি কঠিন হয়ে পড়ে। তদারকি অন্য সংস্থায় দিলে তা আরও যৌক্তিক হবে।’ তিনি আরও জানান, অবৈধ ভবনের বিদ্যুতের মিটার জব্দ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে মামলা কিংবা ভবন ভেঙে ফেলার কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘২১ নভেম্বরের ভূমিকম্পে কসাইটুলির ত্রুটিপূর্ণ ভবনের মালিক এখনো শনাক্ত হয়নি। তবে এলাকাবাসী তাদের সমস্যার সমাধানে রাজউককে সহযোগিতা করছেন।’ তিনি জানান, অনিয়ম করে নকশায় সই দেওয়া প্রকৌশলী ও স্থপতিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জলাশয় ভরাট করে অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণকারী হাউজিং কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে রাজউক।
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ভূমিকম্পপ্রবণ দেশে বড় ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। ‘আমাদের আতঙ্ক আছে, কিন্তু সচেতনতা নেই,’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান বিল্ডিং কোড সময়োপযোগী নয়; দ্রুত আধুনিকায়ন জরুরি।
তিনি জানান, অতীত সরকারের সময়ে ভূমিকম্প সচেতনতা তৈরিতে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও বাস্তব প্রস্তুতি ছিল না। সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে প্রকৌশলী বা ভূতাত্ত্বিক না থাকা বড় ঘাটতি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাজউকের তত্ত্বাবধানাধীন এলাকাগুলোতে অনুমোদন ছাড়াই বহুতল ভবন নির্মাণ এবং কিছু অসাধু কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার সমালোচনা করে কিরণ বলেন, “টাকা ছাড়া রাজউকে পূর্বে কোনো কাজ হতো না। যদিও দুর্নীতি রাতারাতি দূর করা কঠিন, তবে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে অনিয়ম বন্ধ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, ভবন মালিকদের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা আছে; তাই ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারকেই অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। পাশাপাশি রাস্তাঘাট, মেট্রোরেল, ফ্লাইওভার, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগসহ সব অবকাঠামো ভূমিকম্প সহনশীল করে নির্মাণ করতে হবে।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে অনুষ্ঠিত ছায়া সংসদ প্রতিযোগিতায় সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলকে পরাজিত করে বিজয়ী হয় শহিদ বীরউত্তম লে. আনোয়ার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিতার্কিক দল।
প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, সাংবাদিক মাসুদ করিম, সাংবাদিক সাইদুল ইসলাম এবং সাংবাদিক ড. শাকিলা জেসমিন।
অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
