EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

একই স্থানে বারবার ভূমিকম্প, কারণ জানা গেল

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৫৬ পিএম

একই স্থানে বারবার ভূমিকম্প, কারণ জানা গেল

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

মাত্র দুদিনের ব্যবধানে ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশ। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) ভোর ৬টা ১৪ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডে আঘাত হানা এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১, যার উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর শিবপুর।

গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকায় অন্তত ৭ দফা কম্পন অনুভূত হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৬টির উৎপত্তিস্থলই ছিল নরসিংদীতে। একই স্থান থেকে বারবার ভূমিকম্প উৎপত্তি হওয়া কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির বলেন, ‘দেশে একটি বড় ভূমিকম্প হওয়ার পর ছোট ছোট মৃদু অনেকগুলো ভূমিকম্প হয়েছে। তবে যেগুলো হয়েছে তা থেকে আমাদের গবেষণা বলছে সবগুলোই আফটারশক।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারাবাহিক ছোট ও মাঝারি মাত্রার কম্পনগুলো বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনার ইঙ্গিত হতে পারে। বহু বছর ধরেই ভূতাত্ত্বিকরা সতর্ক করে আসছেন যে বাংলাদেশ একটি সক্রিয় প্লেট সীমান্তে অবস্থান করায় যেকোনো সময় বড় ধরনের কম্পন ঘটতে পারে।

বাংলাদেশে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাব্য দুটি প্রধান উৎস চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথমটি—‘ডাউকি ফল্ট’, যা ভারতের শিলং মালভূমির পাদদেশ থেকে ময়মনসিংহ–জামালগঞ্জ–সিলেট অঞ্চলের বিস্তৃত এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে আছে, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার।

দ্বিতীয়টি—সিলেট থেকে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম হয়ে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল, যা সমগ্রভাবে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা পর্যন্ত সংযুক্ত বলে ধরা হয়। এই উৎসটিকে বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মনে করেন।

৩২টি এলাকার জরিপ

ঢাকার দক্ষিণাঞ্চলে ঝুঁকি বেশি রাজধানীর ভূমিকম্প ঝুঁকি মূল্যায়নে মোট ৩২টি এলাকার ভৌত কাঠামো পর্যালোচনা করা হয়।

এই জরিপে উত্তরা, গুলশান, ধানমন্ডি, তেজগাঁও, রমনা, শাহবাগ, আজিমপুর থেকে শুরু করে কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, সূত্রাপুর, শ্যামপুর, পল্লবী, কল্যাণপুর, মিরপুর, গাবতলী-ইত্যাদির মতো ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।

জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, কাঠামোগত দুর্বলতা এবং উদ্ধারকাজের সীমাবদ্ধতার কারণে ঢাকার দক্ষিণাঞ্চলের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। জরিপে দেখা গেছে, ঢাকা উত্তরাঞ্চলের কাফরুল, ইব্রাহিমপুর, কল্যাণপুর, মানিকদী ও গাবতলীসহ বেশ কিছু এলাকাও উচ্চ ঝুঁকির আওতায় রয়েছে।

আরও পড়ুন