আজকের ভূমিকম্পও কি আফটারশক? যা বললেন আবহাওয়াবিদ
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৩৫ এএম
প্রতীকী ছবি
ফের ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অনেক জেলায়। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে ৪ দশমিক ১ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়।
গত ২১ নভেম্বর শুক্রবার থেকেই ধারাবাহিকভাবে ভূকম্পন টের পাওয়া যাচ্ছে। সেদিন দেশে আঘাত হানা ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটিকে ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। উৎপত্তিস্থল ঢাকার একেবারে কাছে হওয়ায় রাজধানীবাসীর মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।
এর উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদীতে, যা রাজধানী থেকে মাত্র ২৫–৪০ কিলোমিটার দূরে। এরপর দুই সপ্তাহে ঢাকায় অন্তত ৭ দফা কম্পন অনুভূত হয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশ ভূমিকম্পের উৎপত্তি নরসিংদী এলাকার বিভিন্ন স্থানে।
একই এলাকা থেকে বারবার কম্পন হওয়াকে আফটারশক হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির।
আজকের ভূমিকম্পের পর দেশের একটি গণমাধ্যমকে তিনি জানান, বড় ভূমিকম্পের পর বেশ কয়েকটি ছোট মৃদু ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে, যেগুলোকে আফটারশক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও কম্পন হতে পারে কি-না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আপাতত তাদের কাছে এমন নির্দিষ্ট তথ্য নেই; তবে এখন পর্যন্ত হওয়া সব কম্পনই আফটারশক হিসেবে ধরা হয়েছে।
এদিকে, বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারাবাহিক ছোট ও মাঝারি মাত্রার কম্পনগুলো বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনার ইঙ্গিত হতে পারে। বহু বছর ধরেই ভূতাত্ত্বিকরা সতর্ক করে আসছেন যে বাংলাদেশ একটি সক্রিয় প্লেট সীমান্তে অবস্থান করায় যেকোনো সময় বড় ধরনের কম্পন ঘটতে পারে।
বাংলাদেশে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাব্য দুটি প্রধান উৎস চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথমটি—‘ডাউকি ফল্ট’, যা ভারতের শিলং মালভূমির পাদদেশ থেকে ময়মনসিংহ–জামালগঞ্জ–সিলেট অঞ্চলের বিস্তৃত এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে আছে, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার।
দ্বিতীয়টি—সিলেট থেকে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম হয়ে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল, যা সমগ্রভাবে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা পর্যন্ত সংযুক্ত বলে ধরা হয়। এই উৎসটিকে বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মনে করেন।
গবেষণা অনুযায়ী, ঢাকার ভূমিকম্পে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি এলাকা হলো: সবুজবাগ, কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগ, কাফরুল, ইব্রাহিমপুর, কল্যাণপুর, গাবতলী, উত্তরা, সূত্রাপুর, শ্যামপুর, মানিকদী, মোহাম্মদপুর, পল্লবী, খিলগাঁও ও বাড্ডা।
ঢাকার ৩২টি এলাকার জরিপে দেখা গেছে, ঘনবসতি, দুর্বল কাঠামো এবং উদ্ধারকাজের সীমাবদ্ধতার কারণে রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চল তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিতে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের কাফরুল, ইব্রাহিমপুর, কল্যাণপুর, মানিকদী ও গাবতলী এলাকা উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বর্তমান কম্পনগুলোর ধারাবাহিকতা বাংলাদেশে কোনো বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনার দিক নির্দেশ করতে পারে—এমন সতর্ক বার্তাই দিচ্ছে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো।