EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

টিআইবির প্রশ্ন: রাষ্ট্র সংস্কার সরকারের কাছে কি শুধুই ফাঁকাবুলি?

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৪৩ এএম

টিআইবির প্রশ্ন: রাষ্ট্র সংস্কার সরকারের কাছে কি শুধুই ফাঁকাবুলি?

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অধ্যাদেশ ২০২৫ চূড়ান্ত অনুমোদনের পর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির অভিযোগ, ‘বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি’ গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুপারিশ ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দিয়ে দুদককে ক্ষমতাসীনদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা অব্যাহত রাখার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) টিআইবি এক সংবাদ বিবৃতিতে বলেছে, ক্ষমতাসীনদের ইঙ্গিতে কেবল প্রতিপক্ষকে টার্গেট করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার এ প্রবণতা বন্ধ করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত কমিটি বাদ দেওয়া শুধু হতাশাজনক নয়, এটি রাষ্ট্র সংস্কারের অভীষ্টকে সরকারের অভ্যন্তরে সংস্কার-প্রতিরোধী মহলের প্রভাবের জিম্মি করেছে।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘দুদককে প্রকৃত অর্থে জবাবদিহিমূলক, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার কৌশলগত সুপারিশটি সরকার অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এটি রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য স্ববিরোধী ও সংস্কারপরিপন্থী নজির। জন্মলগ্ন থেকে দুদক জনআস্থার সংকটে ভুগছে এবং স্বার্থান্বেষী মহলের ক্রীড়নক হিসেবে প্রতিপক্ষকে হয়রানির হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতি দূর করার জন্য প্রস্তাবিত কমিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, অন্তত সাতজন উপদেষ্টাও এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন। অথচ জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী সকল রাজনৈতিক দল একমত হয়েছিল। সরকারের চূড়ান্ত অধ্যাদেশে সুপারিশ বাদ দেওয়া দেশবাসী এবং রাজনৈতিক দলকে কী বার্তা দিচ্ছে যে রাষ্ট্র সংস্কার কেবল ফাঁকাবুলি?’

টিআইবি আরও উল্লেখ করেছে, কিছু খসড়ায় বিদ্যমান আইনের তুলনায় উন্নত মানের সুপারিশ থাকলেও চূড়ান্ত অধ্যাদেশে ঐকমত্য-অর্জিত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুপারিশ বাদ দেওয়া হয়েছে, যা স্বার্থান্বেষী ও প্রভাবশালী মহলের সংস্কার-পরিপন্থী অবস্থার প্রকাশ। সংস্থা প্রশ্ন তুলেছে, এভাবে দমনমূলক ব্যবস্থার সুযোগ রেখে রাষ্ট্র সংস্কার কার্যকর করা সম্ভব কি না।

টিআইবির দাবি, ক্ষমতাসীনদের ইঙ্গিত এবং স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার যথাযথভাবে এগোলে দুদক সত্যিই একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতে পারত। তবে সুপারিশ বাদ দেওয়ার মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন বন্ধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন