কড়াইল বস্তির আগুনে পুড়ল ১৫শ ঘর-বাড়ি
মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২২ মিনিটের দিকে কড়াইল বস্তিতে আগুন লাগার কথা জানায় ফায়ার সার্ভিস।
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৩২ এএম
আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত কড়াইল বস্তি। ছবি: মাহবুব আলম
রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে লাগা ভয়াবহ আগুন পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় পর নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিট। এই অগ্নিকাণ্ডে বস্তির ১ হাজার ৫০০ ঘর-বাড়ি পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রাতে আগুন নিয়ন্ত্রণের পর ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেন্টেনেন্স) লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
লে. কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, আগুন লাগার প্রায় ৩৫ মিনিট পর তিনটি স্টেশনের ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। দেরির প্রধান কারণ হিসেবে তিনি ঢাকা শহরের তীব্র যানজটকে দায়ী করেন।
তিনি বলেন, ‘বিকেলের দিকে যানজট বেশি থাকায় ইউনিটগুলো দ্রুত মুভ করতে পারেনি।’
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন ‘ডেভলপ স্টেজে’ চলে যাওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লেগেছে। এছাড়া, বস্তির সরু রাস্তার কারণে বড় গাড়িগুলো ঢুকতে পারেনি, ফলে দূর থেকে পাইপ টেনে আগুন নেভানোর কাজ করতে হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক ধারণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘বস্তিতে বিভিন্নভাবে কথা বলে আমরা জানতে পেরেছি আনুমানিক ১ হাজার ৫০০ ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ তদন্তের পর জানা যাবে।’ এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর না মিললেও ছোটখাটো আহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আগুন নেভানোর কাজ করার সময় দেখা গেছে, যত্রতত্র বিদ্যুতের তার রয়েছে, প্রত্যেক বাসায় গ্যাস সিলিন্ডার রয়েছে। আগুনের সোর্স তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।’
তিনি জানান, বস্তির ভেতরে আগুনের উৎসের কাছে পৌঁছাতে প্রথমে ফায়ার ফাইটারদের বেশ বেগ পেতে হয়।
প্রতি বছর কড়াইল বস্তিতে আগুন লাগার প্রবণতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রতি বছর বস্তিতে নিয়মিতভাবে মহড়া করা হয়। মহড়ায় চিহ্নিত দুর্বল পয়েন্টগুলো অনুসারে দ্রুত কাজ করা গেছে বলেই আগুন দ্রুত নেভানো সম্ভব হয়েছে। তিনি মনে করেন, মহড়া না থাকলে আগুন নেভাতে আরও দুই-তিন ঘণ্টা বেশি সময় লাগতো।
পানির স্বল্পতা ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত পানির সাপোর্ট আমরা পেয়েছি। ফায়ার সার্ভিসের পানিবাহী গাড়ি, ওয়াসা এবং ড্রেন থেকেও পানি নেওয়া হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, সামনে শীত আসছে, আগামী দুই মাস আমাদের ভাষায় আগুনের সিজন বলা হয়। অন্য সিজনের চেয়ে এই সিজনের আগুনের ঘটনা বেশি দেখতে পায়।
স্থানীয়রা দাবি করেছেন হেলিকপ্টার দিয়ে আগুন নেভালে দ্রুত নেভানো যেত। এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হেলিকপ্টার যখন উড়ে তখন বাতাসের জন্য আগুন আরও বেশি ছড়িয়ে যায়। এখানে হেলিকপ্টার দিয়ে নেভানোর মতো আগুন নয়।
এর আগে, মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২২ মিনিটের দিকে কড়াইল বস্তিতে আগুন লাগার কথা জানায় ফায়ার সার্ভিস। আগুন নেভাতে তাৎক্ষণিক ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট কাজ শুরু করে। পরে আরও ৮টি ইউনিট গিয়ে আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়।