আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলায় আবরারকে জীবন দিতে হয়েছে: মাহমুদুর রহমান
বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের বৈশ্বিক বৈধতার বিষয়ে কথা বলতে তাদের লজ্জাও করল না
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৩৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার জন্য আবরারকে জীবন দিতে হয়েছে। কিন্তু তিনি জাতিকে জাগ্রত করে গেছেন। তিনি বলেন, শহীদ আবরার কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। কিন্তু তার অগাধ দেশপ্রেম ছিল এবং সে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিল। এতটুকুই ছিল শহীদ আবরারের জীবন।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) আবরার ফাহাদ দিবস উপলক্ষ্যে ডাকসুর উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এই কথা বলেন।
আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের বৈশ্বিক বৈধতার বিষয়ে কথা বলতে ভারতের লজ্জাও করল না।
তিনি বলেন, কিছু বাংলাদেশি সাংবাদিক এই মুহূর্তে ভারত সফরে আছেন। তাদের সঙ্গে গতকাল ভারতের পররাষ্ট্র সচিব দেখা করেছেন। সেখানে পররাষ্ট্র সচিব যেসব কথা বলেছেন, সেগুলো থেকেই আপনারা বুঝতে পারবেন—ভারত তার যে আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে, তার একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রয়োজন। যে ভারত ১৫ বছর ধরে একটি ফ্যাসিস্ট ও একনায়কতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতায় রেখেছিল, তাদের অধীনে নির্বাচনের নামে তিন তিনটি তামাশা প্রস্তুত করেছে, সেই ভারতের সচিবের বলতে এতটুকু লজ্জা হলো না যে বাংলাদেশের নির্বাচনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রয়োজন।
মাহমুদুর রহমান তাঁর বক্তব্যে আবরার ফাহাদ সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, আবরার ফাহাদের সঙ্গে আমার অনেকগুলো মিল আছে এবং কিছু অমিল আছে। শহীদ আবরার এবং আমি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের ছাত্র। আমরা একই হলে থাকতাম। শহীদ আবরার ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, আমিও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলি। এতগুলো মিলের কারণে গর্ববোধ করি। তবে আবরার শহীদ হতে পেরেছেন, আমরা পারিনি।
তিনি বলেন, আবরার ফাহাদের গল্প আমাদের প্রতিদিন বলতে হবে। শহরে-নগরে-বন্দরে, গ্রামে-গঞ্জে সর্বত্র বলতে হবে। ফলে আবরার ফাহাদের মতো লাখ লাখ তরুণরা ঢাকায় আসবেন, তখন বাংলাদেশের তথাকথিত বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজ বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ভারতের কাছে সমর্পণ করার সাহস পাবেন না।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব, জবানের সম্পাদক রেজাউল করিম রনি, ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদী, আবরার ফাহাদের ছোট ভাই ও বুয়েট ছাত্র আবরার ফাইয়াজ এবং আপ বাংলাদেশের মুখ্য সমন্বয়ক ও শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি রাফে সালমান রিফাত প্রমুখ।