এবার ভূমিকম্পের আগাম সংকেত দেবে এআই!
গবেষণায় পাওয়া গেছে, সম্ভাব্য ভূমিকম্পের প্রায় এক সপ্তাহ আগে সতর্কবার্তা দিতে পেরেছে এআই। পূর্বাভাসের সঠিকতা ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ।
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:২৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ভূমিকম্প কখন, কোথায় বা কত মাত্রায় হবে—এই প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর বিজ্ঞানীরা এখনো দিতে পারেন না। তবে সাম্প্রতিক প্রযুক্তি সেই সীমাবদ্ধতাকে চ্যালেঞ্জ করছে। বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে এখন ভূমিকম্প বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যোগ হওয়ায় পূর্বাভাসের নতুন দ্বার খুলছে।
এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক গবেষণা উল্লেখযোগ্য। চীনের একটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে টানা সাত মাস ধরে তারা একটি এআই অ্যালগরিদম পরীক্ষা করেন। পরীক্ষার ফল অবাক করার মতো—অ্যালগরিদমটি সম্ভাব্য কম্পনের সময়, স্থান ও মাত্রা আগেভাগেই অনুমান করতে সক্ষম হয়।
গবেষণায় পাওয়া গেছে, সম্ভাব্য ভূমিকম্পের প্রায় এক সপ্তাহ আগে সতর্কবার্তা দিতে পেরেছে এআইটি। পূর্বাভাসের সঠিকতা ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ। কেন্দ্রস্থল ও মাত্রাও যথেষ্ট কাছাকাছি ছিল। যদিও একটি ভূমিকম্প শনাক্ত করতে পারেনি।
এই অ্যালগরিদমকে পাঁচ বছরের সিসমিক ডেটা দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। অতীতের কম্পনের ধরন বিশ্লেষণ করে এটি সম্ভাব্য পরবর্তী ভূমিকম্পের অনুমান করে। রিয়েল-টাইম সিগন্যাল পর্যবেক্ষণ করে অস্বাভাবিক পরিসংখ্যান শনাক্ত করাই এর কাজ—যা বড় কম্পনের পূর্বসূত্র হতে পারে।
অন্যদিকে মার্কিন ভূ-পদার্থবিদ জ্যাকরি রস ভূমিকম্প গবেষণায় এআই ব্যবহারে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সুপার-কম্পিউটিং ও মেশিন লার্নিংয়ের সহায়তায় তিনি ভূত্বকের ফাটল ও শক্তি সঞ্চয়ের ধরণ বিশ্লেষণ করছেন। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিককে তিনি বলেন, “কিছু কম্পন আমরা অনুভব করতে পারি না, কিন্তু মেশিন পারে।”
ক্যালিফোর্নিয়া অঞ্চলে গবেষণা চালিয়ে তিনি অসংখ্য অতি ক্ষুদ্র কম্পনের ডেটা শনাক্ত করেন—যা প্রচলিত পদ্ধতিতে ধরা সম্ভব হয়নি। ২০০৮ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে এআইয়ের সাহায্যে তিনি প্রায় ২০ লাখ নতুন কম্পনের রেকর্ড খুঁজে পান।
গবেষণা মতে, ক্ষুদ্র কম্পনের সঞ্চয় ও গতিবিধির তথ্য ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে।
গবেষকেরা বলছেন, এখনই ভূমিকম্পের নিখুঁত পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব না হলেও এআই ফল্ট লাইনের অস্বাভাবিক আচরণ আগেভাগে জানাতে সাহায্য করবে। ভবিষ্যতে এসব অ্যালগরিদম প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হলে দুর্যোগের আগেই মানুষ প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ পাবে।