EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

শখের কমলাগাছ থেকে ফারুকের বছরে আয় লাখ টাকা

২০২১ সালে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে আনা বিভিন্ন জাতের প্রায় ২০০টি চারা দিয়ে এক বিঘা জমিতে বাণিজ্যিক আঙুর চাষ শুরু করেন

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৫ এএম

শখের কমলাগাছ থেকে ফারুকের বছরে আয় লাখ টাকা

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

শখ করে ২০১৮ সালে বাড়ির উঠানে একটি কমলাগাছ লাগিয়েছিলেন কুড়িগ্রামের আবু রায়হান ফারুক। সেই গাছের ডাল থেকে শতাধিক চারা তৈরি করে শুরু করেন বাণিজ্যিক চাষ। ফারুকের দাবি, তাঁর বাগান দেশের প্রথম বাণিজ্যিক আঙুরবাগান। এ বছর আঙুর বিক্রি করে প্রায় তিন লাখ টাকা এবং আঙুরের চারা বিক্রি করে ১০ লাখ টাকা আয় করেছেন তিনি। জাত ও আকারভেদে এসব চারার দাম ২০০ থেকে ৫০০ টাকা।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নে গড়ে উঠেছে ‘কাজী এগ্রো ফুড রিসোর্ট অ্যান্ড ইকোপার্ক’। এর উদ্যোক্তা আবু রায়হান ফারুক। কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে উদ্ভিদবিদ্যায় পড়াশোনা শেষে চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিকেই আত্মকর্মসংস্থানের পথ হিসেবে বেছে নেন তিনি।

এক কমলাগাছ থেকে বাণিজ্যিক বাগান

২০১৮ সালে বগুড়ায় বেড়াতে গিয়ে একটি কমলার চারা কিনে বাড়ির উঠানে লাগান ফারুক। পরের বছর গাছে ফল ধরলে সেই গাছের ডাল কলম করে শতাধিক চারা তৈরি করেন। সেগুলো এক বিঘা জমিতে লাগিয়ে শুরু করেন বাণিজ্যিক চাষ। ২০১৯ সালে প্রথম ফলনেই প্রায় ৫০ হাজার টাকার কমলা বিক্রি করেন। বর্তমানে দুই বিঘা জমিতে তাঁর শতাধিক কমলাগাছ রয়েছে। এ বছর প্রায় তিন লাখ টাকার কমলা ও তিন লাখ টাকার কমলার চারা বিক্রি করেছেন তিনি।

আঙুর ও অন্যান্য ফলের বাগান

কমলার পর আঙুর চাষে আগ্রহী হন ফারুক। ২০২১ সালে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে আনা বিভিন্ন জাতের প্রায় ২০০টি চারা দিয়ে এক বিঘা জমিতে বাণিজ্যিক আঙুর চাষ শুরু করেন। পরে নিজেই কলম পদ্ধতিতে চারা তৈরি করে আরও দুই বিঘা জমিতে আঙুরের বাগান সম্প্রসারণ করেন।

খামারে দুই বিঘা জমিতে কমলা, দুই বিঘায় আঙুর এবং দুই বিঘায় আমের বাগান রয়েছে। কাটিমন ও বারি-৪ জাতের প্রায় ৫০০টি আমগাছ থেকে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ টাকার আম বিক্রি করেন তিনি। এ ছাড়া রয়েছে প্রায় চার হাজার সুপারিগাছ। সুপারি ও সুপারির চারা বিক্রি করে বছরে প্রায় এক লাখ টাকা আয় হয় বলে জানান ফারুক। একই জমিতে মাল্টা, আপেলসহ বিভিন্ন ফলের গাছও রয়েছে। আঙুরের মাচার নিচে চাষ করছেন আদা।

৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ, চারা যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়

একটি চারা দিয়ে শুরু হলেও খামারটি গড়ে তুলতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন ফারুক। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া সাড়ে সাত একর জমিতে গড়ে তুলেছেন খামার ও নার্সারি। প্রায় দুই বিঘা জমির নার্সারিতে নিজের বাগানের ভালো ফলনশীল গাছ থেকে কলম করে চারা তৈরি করেন। এসব চারা কিনতে দেশের বিভিন্ন এলাকার নার্সারি মালিক ও চাষিরা তাঁর খামারে আসেন। তাঁর উৎপাদিত চারা দেশের বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার পাশাপাশি ভারতেও যাচ্ছে।

নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের আরিফ নার্সারির স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম বলেন, ফারুকের কমলার আকার বড় ও স্বাদ ভালো। তাই দূর থেকে এসে ডাল সংগ্রহ করে চারা তৈরি করেন তিনি। ভালো বাগানের চারা থেকে ভালো ফলন পেলে নার্সারিরও সুনাম বাড়ে।

প্রতিকূলতা ও কর্মসংস্থান

সাফল্যের পাশাপাশি প্রতিকূল আবহাওয়া ও খামারের পাশের দুটি ইটভাটার ধোঁয়া ও তাপের কারণে ক্ষতির মুখেও পড়ছেন ফারুক। তাঁর ভাষ্য, অতিবৃষ্টি, শীতের তীব্র ঠাণ্ডা এবং ইটভাটার প্রভাবে গাছ ও ফল শুকিয়ে যায়। পরিপক্ব হওয়ার আগেই ফল ঝরে পড়ে, কমে যায় উৎপাদন।

খামারে নিয়মিত ছয়জন শ্রমিক কাজ করেন। কাজের চাপ অনুযায়ী খণ্ডকালীন শ্রমিকও নিয়োগ দেওয়া হয়। শ্রমিক আবদুর রহিম বলেন, আগে দৈনিক মজুরিতে কাজ করতেন। এখন মাসিক বেতন পাওয়ায় সংসার চালানো নিয়ে আগের মতো দুশ্চিন্তা করতে হয় না।

ফারুকের মতে, দেশে কমলার বাণিজ্যিক চাষ বাড়ানো গেলে আমদানিনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিদেশে ফল রপ্তানির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. নাহিদা আফরীন বলেন, ফারুক কমলা ও মাল্টার বাগান শুরু করার পর থেকেই কৃষি বিভাগ তাঁকে সহযোগিতা দিয়ে আসছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত বাগান পরিদর্শন করে পরিচর্যা ও চাষাবাদ বিষয়ে পরামর্শ দেন। কুড়িগ্রামের মাটিতে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর ও কমলা চাষের সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের খামার গড়ে তুলতে আগ্রহীদের কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেবে।

আরও পড়ুন