লালমনিরহাট
ভুট্টায় ভাগ্য বদলাচ্ছে হাজারও কৃষকের
এ মৌসুমে প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ মণ ভুট্টা উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার ১২২ কোটি টাকা।
ডেইলি সান রিপোর্ট, লালমনিরহাট
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
তিস্তার বালুচর এখন আর পতিত নয়। সবুজ ভুট্টাখেতে ঢেকে গেছে একসময়ের অনুর্বর চরাঞ্চল। ভুট্টা চাষ করে ভাগ্য বদলাচ্ছেন লালমনিরহাটের হাজারো কৃষক।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় ৩৭ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। এ মৌসুমে প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ মণ ভুট্টা উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার ১২২ কোটি টাকা।
সমতলে প্রতি বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ মণ এবং চরাঞ্চলে ৪০ থেকে ৪২ মণ ভুট্টা উৎপন্ন হয়। প্রতি বিঘায় উৎপাদন খরচ ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা হলেও বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৪৫ হাজার টাকায়। স্বল্প খরচে অধিক মুনাফার কারণে প্রতি বছর ভুট্টা চাষের আওতা বাড়ছে।
হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তার চর সিন্দুর্না এলাকার কৃষক ছকমল হোসেন (৬৫) জানান, এ বছর তিস্তার বালুচরে ১৫০ শতক জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন তিনি, যেখানে গত বছর চাষ করেছিলেন মাত্র ৯০ শতকে। বীজ, সার ও শ্রমিক মিলিয়ে খরচ হবে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা। প্রতি শতক জমি থেকে ৫০ থেকে ৫৫ কেজি ভুট্টা পাওয়ার আশা করছেন তিনি। প্রতি মণ ভুট্টা ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হবে বলেও জানান এই কৃষক।
তিনি বলেন, গত ১৫ বছর ধরে তিস্তার চরে ভুট্টা চাষ করছি। শুরুতে তেমন ফলন না পেলেও এখন বাম্পার ফলন পাচ্ছি। পাটগ্রামের আকবর আলী জানান, ১০ বছর আগেও এলাকায় তামাক চাষ হতো, এখন সেই জমিতেই ভুট্টা ফলছে এবং মানুষের ভাগ্য বদলে গেছে।
তবে কৃষকদের অভিযোগ, ব্যাংক থেকে সুদবিহীন শস্যঋণ না পাওয়ায় তাদের দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে যেতে হচ্ছে, যারা লাভের বড় অংশ নিয়ে নেন। কৃষকেরা এ জেলায় ভুট্টাজাত পণ্যের কারখানা স্থাপনের দাবিও জানিয়েছেন।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মতিউল আলম বলেন, ভুট্টা এখন এ অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে। চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।