হবিগঞ্জের হাওরে বন্যার পানি, তলিয়ে গেছে পাকা ধান
বাম্পার ফলনের পর ঘরে তোলার আগেই হাওরে বিপর্যয়, শ্রমিক ও জ্বালানি সংকটও সংকট আরও গভীর করছে
ডেইলি সান রিপোর্ট, হবিগঞ্জ
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
অনুকূল আবহাওয়া ও নিবিড় পরিচর্যায় এ বছর হবিগঞ্জের হাওরগুলোতে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছিল। পাকা-আধাপাকা শীষ দেখে কৃষকের মনে আনন্দ উপচে পড়ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন ধূলিসাৎ। টানা বৃষ্টি ও আগাম বন্যায় একের পর এক হাওর তলিয়ে যাচ্ছে।
গত তিন দিনে শুধু আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং, লাখাই ও নবীগঞ্জ উপজেলায় তিন হাজার হেক্টরেরও বেশি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত জেলা কৃষি বিভাগ ২ হাজার ৭১০ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
শুধু মাঠের ধান নয়, যে ধান কেটে খলায় রাখা হয়েছিল, সেটিও এখন বিপদে। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের ধানের খলা। ফলে কাটা ধান মাড়াই করা যাচ্ছে না, মাড়াই করা ধান শুকানোরও উপায় নেই। এর সাথে যোগ হয়েছে শ্রমিক ও জ্বালানি সংকট এবং কর্দমাক্ত রাস্তায় পরিবহন সমস্যা।
কৃষকেরা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে খোয়াই, কুশিয়ারা, সুতাং, কালনী নদী এবং হাওরে প্রতিদিনই অস্বাভাবিকভাবে পানি বাড়ছে। এসব নদ-নদী উপচে পড়ে পানি হাওরে ঢুকছে। পানির তোড়ে একের পর এক হাওর তলিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া বৃষ্টির পানিতে অনেক হাওরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান জানান, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় ১২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে, যেকোনো মুহূর্তে পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক দিপক কুমার দাস জানান, হাওর উপজেলাগুলোতে কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
-69f1dfe91583d.jpg)