জেন জি’র রোমান্টিক ‘রেট্রো আইকন’ উত্তম কুমার
ডেইলি সান রিপোর্ট, বিনোদন
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১০ পিএম
মহানায়ক উত্তম কুমার। ছবি: সংগৃহীত
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক মহানক্ষত্রের নাম উত্তম কুমার। নায়ক অনেকেই এসেছে, গিয়েছে। কিন্তু মহানায়ক হয়েছেন তিনিই। তাঁর বহুমুখী অভিনয় প্রতিভা, দীপ্তিময় ব্যক্তিত্ব ও পর্দায় উপস্থিতি বর্তমান জেন-জি প্রজন্মের কাছেও জনপ্রিয়। আজ ৩ সেপ্টেম্বর মহানায়কের শততম জন্মলগ্নে সিনেমাপ্রেমী দর্শকেরা স্মরণ করছে মহানায়ক উত্তম কুমারের গৌরবময় জীবন।

বর্তমান প্রজন্ম উত্তম কুমারের যুগ দেখেনি। হয়ত সব চলচ্চিত্রও দেখার সুযোগ হয়নি। তাদের কাছে মহানায়ক উত্তম কুমার বাবা বা দাদার মুখে শোনা কোনো নস্টালজিয়া নয়। নতুন প্রজন্ম এ মহানায়ককে চেনে তাঁর স্টাইল স্টেটমেন্ট ও নান্দনিকতার জন্য। এপার-ওপার বাংলা মিলিয়ে উত্তম কুমারের ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল। নিজেকে প্রতিনিয়ত ভাঙা, প্রতিটি চরিত্রের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সহজাত প্রতিভায় তিনি ছিলেন অনন্য। এর সঙ্গে মিশে থাকতো তাঁর ব্যক্তিগত ক্যারিশমা।
উত্তম কুমারের ‘রেট্রো ইমেজ’
দিনে দিনে বদলেছে চলচ্চিত্র, বদলেছে চলচ্চিত্র দেখার মাধ্যম। ওটিটি, শর্ট ফিল্ম, মিমস, রিলসের যুগে উত্তম কুমার টিকে আছেন তার ‘কুল রেট্রো’ ইমেজে। উত্তম কুমারের ধুতি-পাঞ্জাবি পরার নিজস্ব কেতাবি লুক, ইন করা শার্ট, ব্যাকব্রাশ করা চুল, চশমা পরার স্টাইল, কোট-টাইয়ে বাবুসাহেব লুক -আজকের প্রজন্মের কাছে এগুলোই স্টাইল স্টেটমেন্ট। এ প্রজন্ম ভিন্টেজ বা রেট্রো স্টাইল খুব পছন্দ করে। ইনস্টাগ্রাম ও পিন্টারেস্টে সাদা-কালো চলচ্চিত্রের নান্দনিকতা খুঁজতে তরুণ প্রজন্ম আইকন হিসেবে দেখে উত্তম কুমারকে।
মিম ও রিলস কালচারে উত্তম কুমার
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগেও উত্তম কুমার কিন্তু বেশ ট্রেন্ডিং। উত্তম কুমার অভিনীত ‘সপ্তপদী’, ‘ভ্রান্তিবিলাস’ ছবির ছোট ছোট ক্লিপ, সংলাপ বা তাঁর রোমান্টিক হাসির দৃশ্য নিয়ে জেন জি প্রচুর রিলস এবং শর্টস তৈরি করে। অনেক সময় মজার মিম বা পপ কালচার রেফারেন্স হিসেবেও তাঁর সিনেমার দৃশ্য ব্যবহার করা হয়।

এটাই প্রমাণ করে যে তিনি আজকের তরুণদের ডিজিটাল জীবনেরও অংশ। ‘নায়ক’ চলচ্চিত্রে উত্তম-শর্মীলা ঠাকুরের ট্রেনযাত্রার রোমান্টিক বা মজার দৃশ্যগুলো নিয়ে রিলস ও শর্টসগুলো বেশ জনপ্রিয়। এই শর্টস ও রিলস দেখে আগ্রহী হয়ে সার্চ দিয়ে পুরো চলচ্চিত্র দেখার প্রবণতা গড়ে তুলছে নয়া প্রজন্ম।
খাঁটি রোমান্টিক আইকন
‘নায়ক’ ছবির প্রসঙ্গেই আলোচনায় আসে ‘অরিন্দম মুখার্জি’ চরিত্রটি। হাল সময়ের ডেটিং অ্যাপ ও ক্যাজুয়াল সম্পর্কের যুগেও জেন-জির একটা অংশ ক্ল্যাসিক রোমান্টিকতায় বিশ্বাস করে। উত্তম - সুচিত্রার রসায়ন, চোখের ভাষা, শালীনতার মধ্যে গভীর অনুভব ব্যক্ত করা- জেন জি’র কাছে খাঁটি রোমান্টিকতার আদর্শ রূপ।

তরুণীদের মধ্যে উত্তম কুমার নিজে যেমন স্বপ্নের নায়ক। তেমন উত্তম কুমারের নায়িকারা সুচিত্রা, শর্মীলা, সুপ্রিয়ার কাজল টানা চোখ, চুলের খোঁপা, শাড়ি পরার ধরন তাদের কাছে ক্ল্যাসিক বাঙালি স্টাইল।
বাস্তবসম্মত অভিনয়
জেন জি মেলোড্রামা পছন্দ করে না। বরং পর্দায় বাস্তবতা দেখতে চায়। জেন জি কেবল মেলোড্রামা পছন্দ করে না, তারা সূক্ষ্ম ও বাস্তবসম্মত অভিনয় দেখতে চায়। ‘খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন’, ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’ কিংবা ‘চিড়িয়াখানা’ ছবিতে উত্তম কুমারের অভিনয় আজও সিনেমাপ্রেমী তরুণদের মনে জায়গা করে নেয়।
জেন জি’র দৃষ্টিতে উত্তম কুমার কোনো হারিয়ে যাওয়া যুগের মানুষ নন। তিনি এক চিরসবুজ ব্যক্তিত্ব, যিনি তাঁর বহুমুখী অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং স্টাইল দিয়ে আজও তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছেন।

কলকাতার ভবানীপুরে ১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন উত্তম কুমার। অভিনয় দিয়ে দর্শক হৃদয়ে আসন গেড়েই ক্ষান্ত হননি। পাশাপাশি সুরকার, প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবেও নিজের বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। ‘সাড়ে চুয়াত্তর’-এর রোমান্টিক নায়ক থেকে সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’-এর অরিন্দম মুখার্জি - সময় ও চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে অবলীলায় বদলে নিয়েছেন। ‘ঝিন্দের বন্দী’তে দ্বৈত চরিত্র, ‘চিড়িয়াখানা’য় ব্যোমকেশ বক্সী কিংবা ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’র মূল ভূমিকায় তিনি আজও অনন্য। তাই জন্মের শতবর্ষেও তাঁর অনেক চরিত্রগুলো একদম হাল আমলের।