EN ☀️
×

Follow Us

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

দ্রুততম সময়ে মহাকাশ স্টেশনে স্পেসএক্সের ৪ নভোচারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম

দ্রুততম সময়ে মহাকাশ স্টেশনে স্পেসএক্সের ৪ নভোচারী

ছবি: বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সফলভাবে তাদের বহনকারী ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের ড্রাগন ক্যাপসুলটি মহাকাশ স্টেশনের ডকিং পোর্টে যুক্ত হয়। সংগৃহীত

অ অ

মহাকাশ গবেষণায় নতুন রেকর্ডের জন্ম দিয়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) পৌঁছেছেন চার সদস্যের একটি নতুন গবেষক দল। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সফলভাবে তাদের বহনকারী ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের ড্রাগন ক্যাপসুলটি মহাকাশ স্টেশনের ডকিং পোর্টে যুক্ত হয়।

বার্তা সংস্থা এএফপি থেকে জানা গেছে, নতুন এই চার নভোচারী আগামী প্রায় ছয় মাস সেখানে অবস্থান করে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ পরিচালনা করবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত কেপ ক্যানাভেরালের স্পেস ফোর্স স্টেশন থেকে ‘ক্রু-১৩’ মিশনের ৪ সদস্যকে নিয়ে স্পেসএক্সের শক্তিশালী ‘ফ্যালকন-৯’ রকেটটি স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১১টা ১০ মিনিটে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়।

উৎক্ষেপণের মাত্র ৭ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট পর স্পেসএক্সের ‘গ্রেস’ নামের ড্রাগন ক্যাপসুলটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের হার্মনি মডিউলের সম্মুখভাগের একটি ডকিং পোর্টে যুক্ত হয়। নাসার কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, এটি এ যাবৎকালে যুক্তরাষ্ট্রের মাটি থেকে কোনো মহাকাশযানের আইএসএসে পৌঁছানোর দ্রুততম সময়ের রেকর্ড।

এর আগে মার্কিন মিশনগুলোর ক্ষেত্রে মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছাতে সাধারণত ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগত। তবে মহাকাশযান উৎক্ষেপণের সময় স্টেশনটি ঠিক কোন অবস্থানে রয়েছে, তার গাণিতিক দূরত্বের ওপরই যাত্রার এই সময়সীমা নির্ভর করে।

নাসা টিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত দৃশ্যে দেখা যায়, ঘণ্টায় প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ মাইল (২৮ হাজার ১৬৩ কিলোমিটার) গতিবেগে মহাকাশে ছুটতে থাকা ক্যাপসুলটি ধীরে ধীরে নিখুঁতভাবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের দিকে এগিয়ে যায়।

ডকিং সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথে পৃথিবীতে থাকা স্পেসএক্সের নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়, ‘ড্রাগনের হার্ড ক্যাপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে’। এরপর মহাকাশযানের হ্যাচ বা মূল দরজা খোলার পর চাপ-নিয়ন্ত্রিত সংযোগপথ দিয়ে নতুন চার নভোচারী স্টেশনে প্রবেশ করে একে অপরকে স্বাগত জানান।

নতুন যুক্ত হওয়া ক্রু-১৩ দলের নেতৃত্বে রয়েছেন নাসার অভিজ্ঞ ভূতত্ত্ববিদ ও নভোচারী জেসিকা ওয়াটকিন্স। তিনি প্রথম কোনো সক্রিয় মার্কিন নভোচারী হিসেবে ড্রাগন ক্যাপসুলে করে দ্বিতীয়বার মহাকাশে যাওয়ার গৌরব অর্জন করলেন। তাঁর দলের বাকি তিন নতুন সদস্য হলেন- যুক্তরাষ্ট্রের পাইলট লুক ডেলানি, কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির (সিএসএ) জোশুয়া কুটরিক এবং রাশিয়ার রশকোসমসের সের্গেই তেরেতিয়াতনিকভ।

জানা গেছে, যান্ত্রিক ত্রুটি ও ড্রাগন ক্যাপসুলে লিক ধরা পড়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় ১৫ দিন পিছিয়ে এই উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হলো।

নবাগত এই দলটি মহাকাশ স্টেশনে আগে থেকে কর্মরত ‘ক্রু-১২’ দলের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেবে। ক্রু-১২ দলের সদস্যরা হলেন- যুক্তরাষ্ট্রের জেসিকা মেয়ার ও জ্যাক হ্যাথাওয়ে, ফ্রান্সের সোফি আদেনো এবং রাশিয়ার আন্দ্রেই ফেদায়েভ। আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে আগামী সোমবারের (৫ অক্টোবর) মধ্যে তারা ড্রাগন ক্যাপসুলে করে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন