EN ☀️
×

Follow Us

মহাকাশ

শেয়ারবাজারে প্রবেশের আগেই স্পেসএক্সের বড় জয়, সফল স্টারশিপ উৎক্ষেপণ

স্যাটেলাইট স্থাপন শেষে ভারত মহাসাগরে নিয়ন্ত্রিত অবতরণ; ১.৭৫ ট্রিলিয়ন ডলারের আইপিওর আগে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ল

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম

শেয়ারবাজারে প্রবেশের আগেই স্পেসএক্সের বড় জয়, সফল স্টারশিপ উৎক্ষেপণ

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্তির মাত্র তিন সপ্তাহ আগে ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেটের সফল পরীক্ষা চালাল ইলন মাস্কের স্পেসএক্স।

শুক্রবার নতুন প্রজন্মের ‘স্টারশিপ ভি৩’ রকেটের প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রকেটটি মহাকাশে স্যাটেলাইট স্থাপন করে ভারত মহাসাগরে নিয়ন্ত্রিতভাবে অবতরণ করেছে।

টেক্সাসের ব্রাউনসভিলের কাছে স্পেসএক্সের স্টারবেইস কেন্দ্র থেকে স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে পাঁচটায় উৎক্ষেপিত হয় প্রায় ৪০ তলা ভবনের সমান উচ্চতার এই বিশালাকার রকেটটি। সুপার হেভি বুস্টারের ৩৩টি র‍্যাপ্টর ইঞ্জিন একসঙ্গে গর্জে উঠলে বিশাল অগ্নিকুণ্ড ও ধোঁয়ার মেঘ তৈরি করে রকেটটি আকাশের দিকে ছুটে যায়।

উৎক্ষেপণের কয়েক মিনিট পরই রকেটের দুটি অংশ সফলভাবে আলাদা হয়ে যায়। ছয়টি ইঞ্জিনের একটি বন্ধ হয়ে গেলেও স্টারশিপ মহাকাশে তার নির্ধারিত কক্ষপথে এগিয়ে চলে। সেখানে ২০টি স্টারলিংক স্যাটেলাইট ও দুটি মোডিফাইড স্যাটেলাইট সফলভাবে মুক্ত করা হয়। এরপর বায়ুমণ্ডলের তীব্র ঘর্ষণ ও উত্তাপ পেরিয়ে প্রায় ৬৫ মিনিটের মিশন শেষে রকেটটি ভারত মহাসাগরে অবতরণ করে। পানিতে পড়ার পরপরই রকেটটি বিস্ফোরিত হয়, যা আগে থেকেই পরিকল্পিত ছিল।

তবে সুপার হেভি বুস্টারটি মেক্সিকো উপসাগরে নামার সময় ইঞ্জিন পুনরায় জ্বালিয়ে গতি নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা সফলভাবে কার্যকর করা যায়নি।

এ সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে নিজের ‘এক্স’ প্ল্যাটফর্মে মাস্ক লেখেন, ‘স্টারশিপ ভি৩-এর প্রথম মহাকাব্যিক উৎক্ষেপণ ও অবতরণের জন্য স্পেসএক্স দলকে অভিনন্দন!’

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বিশ্লেষক ক্যাথলিন কার্লি বলেন, কিছু ত্রুটি থাকলেও এ পরীক্ষাটি বেশ কয়েকটি মূল লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছে এবং এ থেকে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ডেটা ভবিষ্যতে স্পেসএক্সকে আরও এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

২০২৩ সাল থেকে এটি ছিল স্টারশিপের ১২তম পরীক্ষামূলক ফ্লাইট, তবে নতুন ভি৩ সংস্করণের প্রথম উৎক্ষেপণ। নতুন এ সংস্করণে সুপার হেভি বুস্টারের র‍্যাপ্টর ইঞ্জিনে বড় ধরনের আধুনিকায়ন করা হয়েছে, যা ওজন কমিয়েও বেশি শক্তি উৎপন্ন করতে পারে। একইসঙ্গে মহাকাশে ডকিং, জ্বালানি রিফুয়েলিং ও দিক পরিবর্তনের ব্যবস্থাও উন্নত করা হয়েছে।

আগামী মাসে স্পেসএক্স শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কোনো এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের আইপিও হতে পারে। কোম্পানিটির সর্বশেষ মূল্যায়ন ধরা হয়েছে ১.৭৫ ট্রিলিয়ন ডলার। স্টারলিংক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও কক্ষপথে ডেটা সেন্টার স্থাপনসহ কোম্পানির বড় পরিকল্পনাগুলো স্টারশিপের সাফল্যের ওপর নির্ভরশীল।

নাসার আর্টেমিস প্রোগ্রামের আওতায় ২০২৮ সালে চন্দ্রাভিযানের পরিকল্পনায়ও স্টারশিপের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ১৯৭২ সালের পর প্রথমবারের মতো মানুষকে চাঁদে নিয়ে যাওয়ার এ মিশন স্টারশিপকে চীনের সঙ্গে নতুন মহাকাশ প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, কারণ চীনও ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানববাহী যান পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

আরও পড়ুন