EN ☀️
×

Follow Us

মহাকাশ

কেন নাসা এই চন্দ্রাভিযানের নাম দিল ‘আর্টেমিস’?

গ্রিক পুরাণ অনুযায়ী, আর্টেমিস হলেন চাঁদের দেবী। তিনি বন্যপ্রাণী, প্রকৃতি এবং শিকারের রক্ষক হিসেবেও পরিচিত।

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১২ পিএম

কেন নাসা এই চন্দ্রাভিযানের নাম দিল ‘আর্টেমিস’?

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

প্রায় ৫০ বছর পর আবারও মানুষকে চাঁদে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে নাসা। ইতিহাসের পাতায় ১৯৬৯ সালের ‘অ্যাপোলো-১১’ অভিযানের কথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু এবারের অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আর্টেমিস’। কেন এই প্রাচীন গ্রিক নাম? এর পেছনে রয়েছে দারুণ এক পৌরাণিক গল্প আর নাসার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য।

গ্রিক পুরাণ অনুযায়ী, আর্টেমিস হলেন চাঁদের দেবী। তিনি বন্যপ্রাণী, প্রকৃতি এবং শিকারের রক্ষক হিসেবেও পরিচিত। আর্টেমিস ছিলেন সর্বশক্তিমান দেবতা জিউস ও লেটোর কন্যা। তার আরও একটি পরিচয় হলো- তিনি গ্রিক দেবতা ‘অ্যাপোলো’র যমজ বোন।

নাসার প্রথম চন্দ্রাভিযানের নাম ছিল অ্যাপোলো। গ্রিক পুরাণে অ্যাপোলো হলেন সূর্য ও আলোর দেবতা। ১৯৬১ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত চালানো সেই মিশনের মাধ্যমেই মানুষ প্রথম চাঁদে পা রেখেছিল। এবার নাসা যখন আবারও চাঁদে যাওয়ার পরিকল্পনা করল, তখন তারা অ্যাপোলোর যমজ বোন ‘আর্টেমিস’কে বেছে নিল। এর মাধ্যমে নাসা বোঝাতে চেয়েছে যে, আগের অ্যাপোলো মিশন যেখানে শেষ হয়েছিল, সেখান থেকেই নতুন যুগের সূচনা করবে আর্টেমিস।

আর্টেমিস মিশন মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে। এই মিশনের মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো কোনো নারী নভোচারী চাঁদে পা রাখতে চলেছেন। তাই চাঁদের দেবীর নামে এই মিশনের নামকরণ করা হয়েছে নারীর শক্তির প্রতীক হিসেবে।

আগে অ্যাপোলো মিশনগুলো চাঁদের মাঝামাঝি সমতল এলাকায় অবতরণ করেছিল। কিন্তু আর্টেমিস যাবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর অন্ধকার ও দুর্গম এলাকায়, যেখানে আগে কেউ পৌঁছায়নি। আর্টেমিস যেমন শিকারের দেবী হিসেবে দুর্গম বনে বিচরণ করতেন, নাসাও তেমনি চাঁদের অচেনা রূপ উন্মোচন করতে চায়।

নাসা কেবল চাঁদে গিয়ে ফিরে আসতে চায় না, বরং সেখানে দীর্ঘদিন অবস্থান এবং গবেষণার পরিকল্পনা করছে। আর্টেমিসের স্বাধীনচেতা ও দৃঢ় রক্ষার গুণটি নাসার এই দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের সঙ্গে মিলে যায়।

পুরাণে অ্যাপোলো এবং আর্টেমিস যেমন সূর্য ও চাঁদের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেন, বিজ্ঞানেও তেমনি অ্যাপোলো মিশন হলো আমাদের অতীত সাফল্য। আর আর্টেমিস হলো আমাদের ভবিষ্যৎ- যা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

সহজ কথায়, অ্যাপোলো যদি হয় চাঁদে যাওয়ার শুরু, তবে আর্টেমিস হলো সেখানে মানুষের স্থায়ী বসতি গড়ার স্বপ্ন। নাসার এই ‘চাঁদের দেবী’ আমাদের নিয়ে যাবেন এমন এক পৃথিবীতে, যা আগে কখনো দেখেনি মানবজাতি।

আরও পড়ুন