EN ☀️
×

Follow Us

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

বাইন্যান্সে ৬৩৪ কোটি ডলারের চুরি: হ্যাকাররা ঢুকল যেভাবে

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১২ পিএম

বাইন্যান্সে ৬৩৪ কোটি ডলারের চুরি: হ্যাকাররা ঢুকল যেভাবে

বাইন্যান্সের রেকর্ড ক্রিপ্টো চুরিতে জড়িত উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার। ছবি: রয়টার্স

অ অ

বিশ্বের শীর্ষ ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স জানিয়েছে, ২৯ অক্টোবরের রেকর্ড ৬৩৪ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরির পেছনে ছিল উত্তর কোরিয়ার একটি হ্যাকার দল। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে বিবৃতিতে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের ভাষ্য, কর্মীদের ফাঁদে ফেলে মাসব্যাপী পরিকল্পনায় এই হামলা চালানো হয়েছে।

বাইন্যান্সের বর্ণনায়, ঘটনার শুরু জুনে। ওয়ালেট অবকাঠামোর এক প্রকৌশলী এআই কোডিং টুল খুঁজতে গিয়ে অসাবধানতাবশত সংক্রমিত একটি ‘হোমব্রু’ ইনস্টলেশন ফাইল ডাউনলোড করেন। নিরাপত্তাব্যবস্থা অসঙ্গতি ধরে ফেললেও ততক্ষণে ওই প্রকৌশলী ও কয়েক সহকর্মীর ব্যক্তিগত তথ্য হ্যাকারদের হাতে চলে যায়।

সেপ্টেম্বরে হ্যাকারদের লক্ষ্য হন আরেক সফটওয়্যার প্রকৌশলী। চাকরি খোঁজার একটি প্ল্যাটফর্মে ভুয়া ‘প্রজেক্ট ডিরেক্টর’ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রথম ধাপে ছদ্মবেশী এইচআর প্রতিনিধির সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয়। দ্বিতীয় ধাপে চ্যাটিং অ্যাপে ভুয়া সিইও তাঁকে একটি কাজ পাঠান। ফাইলটি ইনস্টল করতেই ভেতরের ম্যালওয়্যার সক্রিয় হয়ে যায়।

বাইন্যান্স জানায়, ম্যালওয়্যারটি শনাক্তকরণ এড়াতে জটিল কৌশল নিয়েছিল। এটি সিস্টেমের আসল একটি ডেভেলপমেন্ট টুল সরিয়ে নিজের সংস্করণ বসাত এবং কাজ শেষে ডিজিটাল আলামত মুছে ফেলত। ২০ অক্টোবর হ্যাকাররা ওই প্রকৌশলীর কম্পিউটার ব্যবহার করে অভ্যন্তরীণ এআই টুলে ঢোকে এবং দুজনের কম্পিউটারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়। ২৯ অক্টোবর তৃতীয় এক প্রকৌশলীর কম্পিউটারে লগইন করে চুরি করা তথ্য দিয়ে তারা মূল হামলা চালায়।

চুরি যাওয়া সম্পদের মধ্যে প্রায় ২৮৫ কোটি ডলার ফ্রিজ করা গেছে। তবে কিছু লেনদেন হামলার শুরুতেই অনুমোদিত থাকায় থামানো যায়নি। ৩ নভেম্বরের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ওয়ালেট সিস্টেম ও এআই টুল নতুন করে চালু হয়েছে, আক্রান্ত ডিভাইস বদলানো হয়েছে এবং ক্রেডেনশিয়াল বাতিল করা হয়েছে। বাইন্যান্স পুরো ক্ষতি নিজেরা বহন করবে বলে জানিয়েছে, যার জন্য সমপরিমাণ তহবিল আলাদা রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, চুরি হওয়া টোকেনের ৯৮ শতাংশ উদ্ধার হয়েছে, বাকিটা বাজার থেকে কিনে নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন