EN ☀️
×

Follow Us

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

ওটিপি প্রতারণা এড়াতে যে ভুলগুলো কখনোই করবেন না

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৮ এএম

ওটিপি প্রতারণা এড়াতে যে ভুলগুলো কখনোই করবেন না
অ অ

একটি ফোনকল। ওপাশ থেকে খুব চেনা ও মার্জিত ভঙ্গিতে কেউ বলছে, ‘আমি কাস্টমার কেয়ার থেকে বলছি। আপনার অ্যাকাউন্টে জরুরি সমস্যা হয়েছে। এখনই ফোনে একটি কোড যাবে, সেটি দ্রুত বলুন।’

কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ফোনে একটি ছয় সংখ্যার কোড চলে আসে। বার্তার নিচে স্পষ্ট লেখা থাকে—‘এটি কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না’। তারপরও ভয়ের চোটে বা তাড়াহুড়োয় অনেকেই কোডটি ওপাশের ব্যক্তিকে বলে ফেলেন। আর মুহূর্তেই খালি হয়ে যায় ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পুরো অ্যাকাউন্ট।

সাইবার প্রতারকদের সবচেয়ে বড় সাফল্য এখানেই। তারা সব সময় খুব জটিল প্রযুক্তি ভেঙে হ্যাক করে না; বরং মানুষকে এমন এক কৃত্রিম সংকট বা ভয়ের পরিস্থিতিতে ফেলে, যেখানে মানুষ নিজেই নিজের নিরাপত্তার দরজা খুলে দেয়।

ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড বা ওটিপি (OTP) মূলত তৈরি হয়েছিল ব্যবহারকারীর অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য। ব্যাংকিং, মোবাইল আর্থিক সেবা (বিকাশ, নগদ, রকেট), ই-মেইল কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে লগইন, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন বা যেকোনো লেনদেন নিশ্চিত করতে এই কোড ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এই সুরক্ষাকবচটিই যদি ভুল হাতে চলে যায়, তবে তা মুহূর্তেই আপনার সবচেয়ে বড় দুর্বলতায় পরিণত হতে পারে।

ডিজিটাল দুনিয়ায় নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে ওটিপি-সংক্রান্ত এই ৬টি ভুল কখনোই করা যাবে না:

১. ফোনে কাউকে ওটিপি বলবেন না

এটি সাইবার নিরাপত্তার সবচেয়ে সুবর্ণ নিয়ম। কেউ ব্যাংক, বিকাশ, নগদ, মোবাইল অপারেটর বা কুরিয়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি পরিচয় দিলেও ভুলেও তাকে ওটিপি বলবেন না। প্রতারকেরা প্রায়ই এমন পরিস্থিতি তৈরি করে যেন আপনার মনে হয়—কোড না বললে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে, টাকা আটকে যাবে কিংবা বড় কোনো পুরস্কার হাতছাড়া হবে। এই তাড়াহুড়ো তৈরি করাই তাদের মূল কৌশল। মনে রাখবেন, কোনো বৈধ প্রতিষ্ঠান কখনোই আপনার গোপন ওটিপি জানতে চাইবে না।

২. শুধু কোড নয়, পুরো বার্তাটি পড়ুন

অনেকে ফোনে ওটিপি আসামাত্রই শুধু সংখ্যাগুলোর দিকে তাকান। কিন্তু বার্তার বাকি অংশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লেখা থাকে। কোডটি কি নতুন কোনো ডিভাইসে লগইন করার জন্য, পাসওয়ার্ড রিসেট করার জন্য, নাকি কোনো অর্থ লেনদেনের জন্য—তা সেখানে স্পষ্ট বলা থাকে। আপনি নিজে কোনো প্রক্রিয়া শুরু না করা সত্ত্বেও যদি এমন ওটিপি আসে, তবে বুঝবেন কেউ আপনার অ্যাকাউন্ট হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

৩. অপরিচিত কাউকে ফোনের নিয়ন্ত্রণ দেবেন না

প্রতারকেরা অনেক সময় অ্যাকাউন্ট ঠিক করার অজুহাতে ‘অ্যানিডেস্ক’ বা ‘টিমভিউয়ার’-এর মতো রিমোট অ্যাক্সেস অ্যাপ ইনস্টল করতে বলে। এর মাধ্যমে তারা দূর থেকেই আপনার ফোনের স্ক্রিন দেখতে বা ফোনটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ফলে আপনার ফোনে আসা ওটিপি বা ব্যাংকিং তথ্য সহজেই তাদের কাছে চলে যায়। তাই অপরিচিত কারও কথায় ফোনে কখনো এ ধরনের অ্যাপ ইনস্টল বা সংযোগের অনুমতি দেবেন না।

৪. লিংকে গিয়ে ওটিপি দেবেন না

আজকাল হ্যাকাররা হুবহু আসল ব্যাংক বা চেনা ওয়েবসাইটের মতো ভুয়া লিংক তৈরি করে। এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপ বা ই-মেইলে ‘অ্যাকাউন্ট যাচাই করুন’ বা ‘পুরস্কার নিন’ সংক্রান্ত লিংক পাঠিয়ে সেখানে ইউজারনেম, পাসওয়ার্ড এবং ওটিপি চাওয়া হয়। এ ধরনের ফাঁদ থেকে বাঁচতে কোনো লিংকে ক্লিক না করে সরাসরি অফিশিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করাই নিরাপদ।

৫. ‘টাকা পেতে ওটিপি লাগবে’—বিশ্বাস করবেন না

আমাদের দেশে অনলাইন কেনাবেচায় এটি খুব সাধারণ একটি প্রতারণা। প্রতারকেরা বলতে পারে, ‘আপনাকে টাকা পাঠানো হয়েছে, গ্রহণ করতে ওটিপি বলুন’ কিংবা ‘ক্যাশব্যাক বা রিফান্ডের টাকা নিতে কোড লাগবে।’ সবসময় মাথায় রাখবেন, টাকা পাওয়ার জন্য বা রিসিভ করার জন্য কাউকে কখনো ওটিপি বলতে হয় না। ওটিপি সবসময় টাকা পাঠানো বা অ্যাকাউন্ট পরিবর্তনের মতো কাজ অনুমোদন করার জন্য ব্যবহৃত হয়।

৬. পরিচিত নাম বা নম্বর দেখেই বিশ্বাস করবেন না

আধুনিক প্রযুক্তির (কলার আইডি স্পুফিং) সাহায্যে প্রতারকেরা ফোনের পর্দায় যেকোনো চেনা ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের নাম ভাসিয়ে তুলতে পারে। তাই স্ক্রিনে ব্যাংকের নাম দেখালেও ওটিপি চাইলে কলটি কেটে দিন। এরপর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিশিয়াল হটলাইন নম্বরে নিজে কল করে সত্যতা যাচাই করুন।

ভুল করে ওটিপি দিয়ে ফেললে কী করবেন?

যদি ভুলবশত ওটিপি শেয়ার করেই ফেলেন, তবে লজ্জা বা ভয়ে চুপ করে থাকবেন না। প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত এই পদক্ষেপগুলো নিন:

• যত দ্রুত সম্ভব সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।

• ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার অফিশিয়াল কাস্টমার কেয়ারে কল করে অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে ব্লক করুন।

• আপনার অ্যাকাউন্টে কোনো অপরিচিত ডিভাইস লগইন করা আছে কিনা পরীক্ষা করে তা রিমুভ করে দিন।

আপনি নিজে কোনো চেষ্টা করেননি, তবুও হঠাৎ ফোনে ওটিপি চলে এসেছে? এটিকে হালকাভাবে নেবেন না। এর অর্থ কেউ আপনার অ্যাকাউন্ট ভাঙার চেষ্টা করছে। এমনটি বারবার হলে দ্রুত আপনার পাসওয়ার্ডটি বদলে ফেলুন। সচেতনতাই ডিজিটাল মাধ্যমে আপনার সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

আরও পড়ুন