EN ☀️
×

Follow Us

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

ইনস্টাগ্রাম এবং ফেসবুকে আসক্তি ছড়ানোর অভিযোগ

বিচারের মুখোমুখি হওয়ার আগেই কিশোরীর সাথে সমঝোতা করল মেটা

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম

বিচারের মুখোমুখি হওয়ার আগেই কিশোরীর সাথে সমঝোতা করল মেটা
অ অ

ইনস্টাগ্রাম এবং ফেসবুক অ্যাপ দুটিকে তরুণ ও কিশোর-কিশোরীদের আসক্ত করার মতো করে ডিজাইন করার অভিযোগে করা একটি মামলা আদালতের চূড়ান্ত বিচারের মুখোমুখি হওয়ার আগেই অভিযোগকারী এক কিশোরীর সাথে সমঝোতায় পৌঁছেছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা প্ল্যাটফর্মস। 

বাদীর আইনজীবীরা শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মেটার সাথে এই রফাদফার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

লস অ্যাঞ্জেলেসের স্টেট কোর্টে ‘এস.জে.’ এবং ‘কে.ডি.বি.’ নামের দুই কিশোরীর করা যৌথ মামলার জুরি (বিচারক প্যানেল) নির্বাচন প্রক্রিয়া গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) শুরু হওয়ার পর এই সমঝোতা সম্পন্ন হলো।

মেটা এবং স্ন্যাপচ্যাটের মূল প্রতিষ্ঠান স্ন্যাপ ইনকর্পোরেটেডের বিরুদ্ধে এই বিচারপ্রক্রিয়া চলার কথা ছিল। এর মধ্যে প্রথম বাদী এস.জে.-এর সাথে বিচার শুরুর কয়েক দিন আগেই মেটা সমঝোতা করে ফেলেছিল। এবার দ্বিতীয় বাদী কে.ডি.বি.-এর সাথেও মেটা মীমাংসা করে নেওয়ায় এখন মামলাটির বিচার কেবল ‘স্ন্যাপ’-এর বিরুদ্ধে চলবে।

বাদী কে.ডি.বি.-এর আইনজীবী এমিলি জেফকোট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাপগুলোতে শিশুদের নিরাপত্তা উন্নত করতে এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের মক্কেলের পক্ষে এই বিষয়টির একটি ন্যায়সংগত সমাধান করতে পেরে আমরা আনন্দিত।’’

অন্যদিকে মেটার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এ ধরণের মামলাগুলোর ক্ষেত্রে সমঝোতা বা খারিজ হওয়া বিচার প্রক্রিয়ারই অংশ।

মেটা গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় বিভিন্ন টুল তৈরি করছে দাবি করে ওই মুখপাত্র বলেন, ‘‘আমরা আদালতে নিজেদের আত্মপক্ষ সমর্থন বজায় রাখব এবং আমাদের রেকর্ডের পাশে দাঁড়াবো।’’

মেটা, স্ন্যাপ, টিকটক এবং অ্যালফাবেটের ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীদের বাধ্যতামূলক বা অবাধ্য ব্যবহারের সুবিধা রেখে অ্যাপ ডিজাইন করেছে- এমন অভিযোগে তরুণদের দায়ের করা মামলাগুলোর মধ্যে এটি লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালতে দ্বিতীয় বিচারপ্রক্রিয়া।

দুই বাদী- ইলিনয়ের ১৬ বছর বয়সী কিশোরী এস.জে. এবং মিসিসিপির ১৮ বছর বয়সী কে.ডি.বি. অভিযোগ করেছিলেন যে, তারা মাত্র ৩ বছর বয়স থেকে ইউটিউব এবং ৯ বছর বয়স থেকে অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার শুরু করেন।

অ্যাপগুলোর ‘অটোপ্লে’ এবং ‘ইনফিনিট স্ক্রল’ (অনবরত স্ক্রল করার সুবিধা)-এর মতো ফিচারের কারণে তারা মারাত্মক আসক্তিতে ভোগেন, যা পরবর্তীতে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ও খাওয়ার অভ্যাসে অসংলগ্নতা তৈরি করে। এই দুই কিশোরী অবশ্য আগেই টিকটক এবং ইউটিউবের সাথে সমঝোতা করেছিলেন।

আমেরিকার ফেডারেল ও স্টেট কোর্টগুলোতে বর্তমানে বিভিন্ন ব্যক্তি, স্কুল ডিস্ট্রিক্ট এবং পৌরসভার পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

তাদের অভিযোগ, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো জেনেশুনেই শিশুদের আসক্ত করেছে, যা কিশোর-কিশোরীদের মাঝে তীব্র উদ্বেগ, বিষণ্ণতা ও আত্মহত্যার মতো মানসিক স্বাস্থ্য সংকট তৈরি করছে।

চলতি বছরের মার্চ মাসে শেষ হওয়া এই সংক্রান্ত প্রথম মামলার বিচারে লস অ্যাঞ্জেলেসের জুরি মেটা এবং ইউটিউবকে অবহেলার জন্য দোষী সাব্যস্ত করে এক তরুণীকে ৬০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

এরপর গত আগস্টে, কিশোর-কিশোরীদের ওপর প্ল্যাটফর্মের ক্ষতির প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি রাজ্য এবং অঞ্চলের করা মামলাগুলো নিষ্পত্তি করতে মেটা রেকর্ড ১৮ বিলিয়ন ডলারের (১.৮ লক্ষ কোটি টাকা প্রায়) এক বিশাল বৈশ্বিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করে এবং ইনস্টাগ্রামে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেয়।

এ ছাড়া চলতি মাসের শুরুর দিকে নিউ মেক্সিকোর এক বিচারক ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ডেটা গোপনীয়তা ও হেট স্পিচ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বিভ্রান্ত করার দায়ে মেটাকে ২৫ বিলিয়ন ডলারের এক নজিরবিহীন জরিমানা প্রদানের আদেশ দিয়েছেন, যার বিরুদ্ধে মেটা আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

আরও পড়ুন