EN ☀️
×

Follow Us

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

এআই ছবি-ভিডিও শনাক্তে গুগলের নতুন ফিচার

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম

এআই ছবি-ভিডিও শনাক্তে গুগলের নতুন ফিচার

সিন্থআইডি ডিটেক্টরে এআইনির্মিত ছবি, ভিডিও ও অডিও শনাক্ত করা যাবে। ছবি: গুগল

অ অ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি এবং সম্পাদিত কনটেন্ট নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে একটি নতুন ওয়েব টুল সবার জন্য উন্মুক্ত করেছে গুগল। ‘সিন্থআইডি ডিটেক্টর’ নামের এই ওয়েবভিত্তিক টুলটি গুগল, ওপেনএআই, এনভিডিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার ‘কাকেও’-এর মতো শীর্ষস্থানীয় প্ল্যাটফর্মের এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ছবি, ভিডিও ও অডিও ক্লিপ সফলভাবে চিহ্নিত করতে পারবে। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেট এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সম্পূর্ণ নিখরচায় ব্যবহার করা গেলেও টুলটি ব্যবহারের জন্য ব্যবহারকারীদের গুগল, ওপেনএআই কিংবা অ্যাপল অ্যাকাউন্টে লগইন করতে হবে। এখন থেকে যে কেউ সরাসরি synthid.com ওয়েবসাইটে গিয়ে যেকোনো কনটেন্টে সিন্থআইডি ওয়াটারমার্ক যুক্ত আছে কি না, তা যাচাই করে নিতে পারবেন।

অ্যাপলের এআই ফিচার ‘ইমেজ প্লেগ্রাউন্ড’-এর মাধ্যমে তৈরি করা ছবি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এটি বিশ্বের অন্যতম অগ্রগামী টুল হতে যাচ্ছে। গুগল জানিয়েছে, অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে তৈরি ও এডিট করা ছবির জন্য এতে ‘শিগগিরই’ পূর্ণাঙ্গ সমর্থন যুক্ত করা হবে।

এর আগে গুগলের ‘সার্কেল টু সার্চ’ ফিচার ও জেমিনাই অ্যাপের মাধ্যমেও সিন্থআইডি ওয়াটারমার্ক ও সিটুপিএ কনটেন্ট ক্রেডেন্সিয়াল শনাক্ত করার সুযোগ ছিল। তবে একটি ডেডিকেটেড বা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট চালুর ফলে ব্যবহারকারীদের জন্য সেবাটি পাওয়া এখন আরও সহজ হলো—বিশেষ করে যারা গুগলের নিয়মিত এআই টুলগুলো ব্যবহার করেন না, তারাও এটি সহজে ব্যবহার করতে পারবেন।

গুগল ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। এর পূর্ববর্তী সংস্করণগুলো কেবল সাংবাদিক ও গণমাধ্যম পেশাদারদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত ছিল।

সার্বজনীনতার অভাব: সব কোম্পানি ওয়াটারমার্কিংয়ের জন্য একই মানদণ্ড ব্যবহার না করায় এটি সব ধরনের এআই কনটেন্ট সমানভাবে শনাক্ত করতে পারে না।

সম্পাদনা জটিলতা: কোনো কনটেন্ট কি সম্পূর্ণ এআই দিয়ে তৈরি নাকি কেবল এআইয়ের সাহায্যে এডিট করা হয়েছে—এই দুটির মধ্যে টুলটি পার্থক্য করতে পারে না।

বিস্তারিত তথ্যের অভাব: কনটেন্টটি ঠিক কীভাবে তৈরি হয়েছে বা এর কোন অংশটি কৃত্রিম, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বিবরণ এটি দেয় না। উপরন্তু, বিশেষ কিছু উপায়ে ফাইল থেকে ওয়াটারমার্ক মুছে ফেলাও সম্ভব।

এআই কনটেন্ট যাচাইয়ের পদ্ধতিটি এখনো পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত নয়। যেমন—মেটা তাদের নিজস্ব ওয়েব টুল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে যা কেবল তাদের ‘মিউজ’ ইমেজ মডেলের ছবি শনাক্ত করতে পারে, অন্য কোম্পানির নয়। তবে গুগল এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে কাজ করছে। 

ইতোমধ্যে তারা অডিও প্ল্যাটফর্ম ‘ইলেভেনল্যাবস’-এর সমর্থন যোগ করার কথা জানিয়েছে। গুগল তাদের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করেছে, ভবিষ্যতে আরও বেশি জেনারেটেড মিডিয়া শনাক্তের পরিধি বাড়াতে তারা ক্রমাগত অন্যান্য টেক জায়ান্টদের সাথে পার্টনারশিপ বাড়ানোর কাজ করে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন