EN ☀️
×

Follow Us

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

মহাকাশে কেন এআই চিপ পাঠাচ্ছে গুগল

আগামী ১ অক্টোবর স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটে করে এটি মহাকাশে যাবে

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম

মহাকাশে কেন এআই চিপ পাঠাচ্ছে গুগল

টিপিইউ চিপ সম্বলিত পরীক্ষামূলক স্যাটেলাইট নিয়ে মহাকাশে পাড়ি জমাচ্ছে গুগলের ফ্যালকন ৯ রকেট। ছবি: রয়টার্স

অ অ

মহাকাশের চরম পরিবেশে নিজেদের এআই চিপ কেমন কাজ করে তা পরীক্ষা করতে একটি স্যাটেলাইট পাঠাচ্ছে গুগল। আগামী ১ অক্টোবর স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটে করে এটি মহাকাশে যাবে। এ তথ্য প্রথম প্রকাশ করেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।

গুগলের ‘প্রজেক্ট সানক্যাচার’ নামের পরীক্ষামূলক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই উৎক্ষেপণ হচ্ছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য, ভবিষ্যতে মহাকাশেই এআই ডেটা সেন্টার বসানোর সম্ভাবনা যাচাই করা। প্রযুক্তি সংবাদমাধ্যম ভার্জের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্যাটেলাইটটিতে থাকছে গুগলের নিজস্ব তৈরি ‘টেনসর প্রসেসিং ইউনিট’ বা টিপিইউ চিপ। এটি নিম্ন ভূ-কক্ষপথে থেকে সৌরশক্তি ব্যবহার করে চলবে।

গুগল জানিয়েছে, এই মিশনের মূল উদ্দেশ্য হলো তাদের টিপিইউ চিপ মহাকাশযানের চাপ, তীব্র বিকিরণ ও তাপমাত্রার চরম ওঠানামা কতটা সহ্য করতে পারে তা মাপা। কক্ষপথে থাকা অবস্থায় হিট পাইপ ও রেডিয়েটরযুক্ত একটি বিশেষ শীতলীকরণ ব্যবস্থাও পরীক্ষা করা হবে।

মহাকাশে চিপসংবলিত স্যাটেলাইটের একটি বড় নেটওয়ার্ক বা কনস্টেলেশন গড়ে তোলাই গুগলের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য। এই উৎক্ষেপণকে সেই লক্ষ্যের প্রথম ধাপ বলা হচ্ছে। এর আগে ইলন মাস্ক, জেফ বেজোস ও গুগলের সাবেক প্রধান নির্বাহী এরিক শ্মিড পৃথিবীর ডেটা সেন্টারের বিকল্প হিসেবে মহাকাশে এমন স্যাটেলাইট বসানোর ধারণা দিয়েছিলেন। প্রকল্পের অংশ হিসেবে আগামী বছর আরও দুটি স্যাটেলাইট পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে গুগলের।

গুগল জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক ধাপে তাদের টিপিইউ চিপ উচ্চমাত্রার জি-ফোর্স ও বিকিরণ সহ্য করতে পারার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে কোম্পানিটি বলেছে, কিছু বিষয় কেবল মহাকাশে গিয়েই সঠিকভাবে পরীক্ষা করা সম্ভব।

‘প্রজেক্ট সানক্যাচার’-এর প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্টের সিনিয়র ডিরেক্টর ট্র্যাভিস বেলস বলেছেন, এই চিপগুলো অতিরিক্ত গরম হওয়ার আগে টানা প্রায় ১৫ মিনিট সচল রাখা যাবে। এরপর ঠান্ডা করার জন্য কিছুক্ষণ সেগুলো বন্ধ রাখতে হবে।

গুগলের এক ঘোষণায় বেলস বলেন, স্কেলযোগ্য এআই কম্পিউটিংয়ের জন্য মহাকাশকে কার্যকর জায়গা হিসেবে গড়ে তোলার কাজ একদিনে সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সুশৃঙ্খল প্রকৌশলগত পদক্ষেপ, যা শুরু হয় হার্ডওয়্যার মহাকাশের ভৌত ও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সামলাতে পারে কি না, তা প্রমাণ করার মধ্য দিয়ে। তার ভাষায়, এই প্রথম উৎক্ষেপণের মূল উদ্দেশ্য—কোন পদ্ধতি কাজ করছে তা দেখা, ত্রুটি চিহ্নিত করা এবং সেই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ মিশনে কাজে লাগানো।

আরও পড়ুন