ছবি: সংগৃহীত
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম রীতিমতো হুমড়ি খেয়ে পড়েছে ৮০’র দশকের ট্রেন্ডে। এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এমন জনপ্রিয় ট্রেন্ড আগেও ভাইরাল হয়েছে। আপনি কী জানেন কেন এই ট্রেন্ডগুলো ব্যবহারকারীরা এতো পছন্দ করে? কীভাবেই বা এ ট্রেন্ডগুলো তৈরি হয়?
মূলত মেশিন লার্নিং এবং প্যাটার্ন শনাক্তকরণ অ্যালগরিদমের মাধ্যমে বিশাল পরিমাণের ডেটা বা তথ্য বিশ্লেষণ করে নিখুঁত ট্রেন্ড (প্রবণতা) তৈরি করে। এআই-এর এই ট্রেন্ড তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটি জানলে বুঝবেন কীভাবে আপনার দেওয়া ডেটাই সাহায্য করে এমন জনপ্রিয় ট্রেন্ড তৈরীতে।
ডেটা সংগ্রহ ও তৈরি করা
এআই সিস্টেম শুরুতেই বিভিন্ন উৎস থেকে ডেটা সংগ্রহ করে। এর মধ্যে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট, কী সার্চ করছেন, কেনাকাটার ট্রানজেকশন এবং আইওটি সেন্সর। এখান থেকে ডেটা পরিশোধনও করা হয়। এরপর লেখা ও ছবিগুলো এমনভাবে সাজানো হয় যাতে কম্পিউটার বুঝতে পারে।
ডেটা বিশ্লেষণ এবং প্যাটার্ন শনাক্তকরণ
ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিংয়ের (এনএলপি) মাধ্যমে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষের রিভিউ থেকে সাধারণ মানুষের মতামত ও মানসিক অনুভূতি বুঝতে এআই 'এনএলপি' প্রযুক্তি ব্যবহার করে।
অ্যালগরিদমগুলো মানুষের একই ধরনের আচরণ বা পছন্দগুলোকে একসাথে দলভুক্ত করে এবং ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার মধ্যকার লুকিয়ে থাকা সংযোগ বা সম্পর্কগুলো খুঁজে বের করে। নতুন কোনো তথ্য আসার সাথে সাথেই এআই মডেলগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের আপডেট বা উন্নত করে নেয়। এর ফলে সময়ের সাথে সাথে বাজারে বা মানুষের রুচিতে কী ধরনের পরিবর্তন আসছে, তা তারা আরও নিখুঁতভাবে বুঝতে পারে।
-6aa4055b9976b.jpg)
ভবিষ্যৎ বুঝতে পারা
সব ধরণের ডেটা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে ইতিহাসে থাকা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এআই রিগ্রেশন অ্যানালাইসিস এবং টাইম-সিরিজ ফোরকাস্টিংয়ের মতো উন্নত মডেল ব্যবহার করে। এগুলো ব্যবহার করে এআই আগে থেকেই বলে দিতে পারে ভবিষ্যতে কোন পণ্যের চাহিদা বাড়বে, মানুষের পছন্দ কেমন হবে কিংবা বাজারে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
এভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মূলত ব্যবহারকারীদের বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করে উদীয়মান প্যাটার্ন বা ধারাগুলো শনাক্ত করে। এরপর এমন কিছু আকর্ষণীয় কনটেন্ট তৈরি করে যা মানুষ নিজে থেকে অনুকরণ ও শেয়ার করতে পছন্দ করে।