EN ☀️
×

Follow Us

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

নিরাপত্তার অজুহাতে অ্যানথ্রপিকের দুই শীর্ষ এআই মডেল বন্ধ, বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীরা বিপাকে

ফেবল ৫ ও মিথোস ৫ চালুর কয়েক দিনের মধ্যেই স্থগিত; বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশাধিকার বন্ধে মার্কিন নির্দেশের পর বিশ্বব্যাপী সেবা প্রত্যাহার

এন এইচ রাজু

এন এইচ রাজু

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:১১ পিএম

নিরাপত্তার অজুহাতে অ্যানথ্রপিকের দুই শীর্ষ এআই মডেল বন্ধ, বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীরা বিপাকে
অ অ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি খাতে নজিরবিহীন এক পদক্ষেপে অ্যানথ্রপিক তাদের সর্বাধুনিক দুটি মডেল ‘ক্লড ফেবল ৫’ ও ‘মিথোস ৫’ বিশ্বজুড়ে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। মার্কিন সরকারের নির্দেশে বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশাধিকার স্থগিত করার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

অ্যানথ্রপিকের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৫টা ২১ মিনিটে প্রাপ্ত এক সরকারি নির্দেশে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে কিংবা বাইরে অবস্থানরত যেকোনো বিদেশি নাগরিকের জন্য মডেল দুটিতে প্রবেশাধিকার বন্ধ করতে হবে। নির্দেশনার আওতায় প্রতিষ্ঠানটির বিদেশি কর্মীরাও পড়েন।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারকারীদের নাগরিকত্ব যাচাই করা সম্ভব নয়। ফলে নির্দেশনা লঙ্ঘনের ঝুঁকি এড়াতে বিশ্বব্যাপী সব ব্যবহারকারীর জন্যই ফেবল ৫ ও মিথোস ৫ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে অ্যানথ্রপিকের অন্যান্য এআই মডেল স্বাভাবিকভাবে চালু রয়েছে।

মাত্র কয়েক দিন আগে চালু হওয়া ফেবল ৫-কে অ্যানথ্রপিক তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে সক্ষম ও উন্নত উন্মুক্ত এআই মডেল হিসেবে বর্ণনা করেছিল। কিন্তু উদ্বোধনের অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

‘জেলব্রেক’ নিয়ে বিতর্ক

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট উদ্বেগ থেকেই এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। তবে অ্যানথ্রপিক বলছে, সরকার তাদের কাছে কেবল একটি সম্ভাব্য ও সীমিত ‘জেলব্রেক’ বা নিরাপত্তা ফাঁকির মৌখিক তথ্য উপস্থাপন করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির মতে, যে ত্রুটির কথা বলা হচ্ছে তা মূলত একটি নির্দিষ্ট সফটওয়্যার কোড বিশ্লেষণ ও ত্রুটি সংশোধনসংক্রান্ত কৌশলের সঙ্গে সম্পর্কিত। অ্যানথ্রপিকের দাবি, এমন সীমিত সম্ভাবনার ভিত্তিতে শত কোটি ব্যবহারকারীর জন্য উন্মুক্ত একটি বাণিজ্যিক মডেল বন্ধ করে দেওয়া যৌক্তিক নয়। একই ধরনের দুর্বলতা প্রতিদ্বন্দ্বী এআই মডেলগুলোতেও থাকতে পারে বলেও প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখ করেছে।


অ্যানথ্রপিক বলেছে, সরকার চাইলে অনিরাপদ প্রযুক্তি ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, তবে তা হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও প্রযুক্তিগতভাবে সুস্পষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।

প্রশাসনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ অ্যানথ্রপিক ও মার্কিন প্রশাসনের মধ্যে চলমান বিরোধের সর্বশেষ অধ্যায়। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি তাদের এআই মডেলকে পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র বা ব্যাপক গণনজরদারি ব্যবস্থায় ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী ডারিও আমোদেই বারবার বলেছেন, বর্তমান প্রজন্মের এআই প্রযুক্তি এখনো স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র পরিচালনার মতো সংবেদনশীল কাজে ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য নয়।

এ অবস্থায় মার্কিন সরকারের কিছু সংস্থা অ্যানথ্রপিকের প্রযুক্তি ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। পরে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং মামলাটি এখনো বিচারাধীন রয়েছে।

বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের ওপর প্রভাব

বিশ্বব্যাপী এই স্থগিতাদেশের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের ডেভেলপার, ফ্রিল্যান্সার, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর। সাম্প্রতিক সময়ে উন্নত এআই মডেলগুলো সফটওয়্যার উন্নয়ন, কনটেন্ট তৈরি, তথ্য বিশ্লেষণ ও গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ঘটনা দেখিয়ে দিল যে উন্নত এআই প্রযুক্তির প্রাপ্যতা কেবল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তের ওপর নয়, বরং বড় শক্তিগুলোর নীতিগত ও ভূরাজনৈতিক অবস্থানের ওপরও নির্ভরশীল হয়ে উঠছে।

প্রযুক্তি খাতের পর্যবেক্ষকদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বাজার, উদ্ভাবন এবং উন্নয়নশীল দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন