EN ☀️
×

Follow Us

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

স্টারলিংক বাংলাদেশে এসেছে কিন্তু সাধারণ মানুষ কিনছে না কেন?

মহাকাশ থেকে ইন্টারনেট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে এলেও, চড়া দামের কারণে মাত্র ৮ মাসে গ্রাহক মিলেছে মাত্র সাড়ে তিন হাজার।

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম

স্টারলিংক বাংলাদেশে এসেছে কিন্তু সাধারণ মানুষ কিনছে না কেন?

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

ইলন মাস্কের স্টারলিংক গত বছরের মে মাসে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। মহাকাশে থাকা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট দেওয়ার এই সেবা সারা বিশ্বে বেশ আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষত প্রত্যন্ত অঞ্চলে, যেখানে তার বা মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছায় না, সেখানে এটি বড় সুযোগ হতে পারে।

কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। লাইসেন্স পাওয়ার পর ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও সারা দেশে স্টারলিংকের গ্রাহক সংখ্যা মাত্র ৩,৪৬৯ জনে থেমে আছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সংখ্যাটি দেশের মোট ১৩ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর তুলনায় একেবারেই নগণ্য।

‘মাসে ৪,২০০ টাকায় ইন্টারনেট? স্থানীয় ব্রডব্যান্ড মাত্র ৪০০ টাকায় পাওয়া যায়- সাধারণ মানুষ কেন বেশি খরচ করবে?’

মূল সমস্যা দাম। স্টারলিংকের সবচেয়ে সস্তা ‘রেসিডেনশিয়াল লাইট’ প্যাকেজের মাসিক খরচ ৪,২০০ টাকা। অথচ দেশের স্থানীয় ব্রডব্যান্ড সেবা মাত্র ৪০০ থেকে ১,২০০ টাকায় পাওয়া যায়। অর্থাৎ একই ইন্টারনেটের জন্য স্টারলিংকে খরচ হচ্ছে প্রায় ১০ গুণ বেশি।

হার্ডওয়্যারের দামও চড়া। একটি স্ট্যান্ডার্ড স্টারলিংক কিট কিনতে লাগে প্রায় ৪৯,৫০০ টাকা। ডিশ বসানো, ওয়াই-ফাই রাউটার সংযোগ- সব মিলিয়ে শুরুতেই বড় বিনিয়োগ করতে হয়।

তাহলে স্টারলিংক কার কাজে লাগছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম, হাওর বা চরাঞ্চলের মতো দুর্গম এলাকায় এটি সত্যিই কার্যকর। বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি ইতোমধ্যে তিনটি পার্বত্য জেলার ১২টি স্কুলকে স্টারলিংকের মাধ্যমে ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত করেছে। দীর্ঘ রুটের বাস ও ট্রেনেও এই সেবা ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রামের মতো শহরে যেখানে ফাইবার নেটওয়ার্ক আগে থেকেই ছড়িয়ে আছে, সেখানে স্টারলিংকের চাহিদা তেমন নেই বলে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন। ‘সাধারণ ব্যবহারকারীরা যেখানে ফাইবার পাচ্ছেন, সেখানে তাঁরা এত বেশি টাকা খরচ করবেন না’- বলেছেন বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানির বিক্রয় বিভাগের কর্মকর্তা।

তবে একটি আশার খবর আছে। স্টারলিংক প্রস্তাব দিয়েছে যে বাংলাদেশের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইন্টারনেট রপ্তানি করা হতে পারে। বিটিআরসি এই প্রস্তাব যাচাই করছে। এটি অনুমোদিত হলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক তথ্যপ্রযুক্তির কেন্দ্র হিসেবে নতুন ভূমিকায় আসতে পারে এবং বৈদেশিক মুদ্রাও আসতে পারে।

আরও পড়ুন