চার নভোচারীকে জেনেশুনে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে নাসা?
ওরিয়নের ত্রুটিপূর্ণ শিল্ড ও নাসার একগুঁয়েমি: শঙ্কায় চার মহাকাশচারী
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
চাঁদের বুকে আবারও মানুষের পদচিহ্ন আঁকতে নাসার সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী প্রজেক্ট ‘আর্টেমিস’ এখন চূড়ান্ত ক্ষণ গণনায়।
আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি ওরিয়ন মহাকাশযানে চেপে চাঁদের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা চার নভোচারীর। কিন্তু এই ঐতিহাসিক যাত্রার আনন্দ ছাপিয়ে এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে মৃত্যুর শঙ্কা।
নাসার অন্দরেই প্রশ্ন উঠেছে- মহাকাশযানটির ত্রুটিপূর্ণ ‘হিট শিল্ড’ কি চার নভোচারীর জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দেবে?
আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ওরিয়ন মহাকাশযানের তাপ সুরক্ষা বর্ম বা হিট শিল্ড। পৃথিবী অভিমুখী প্রত্যাবর্তনের সময় বায়ুমণ্ডলের চরম ঘর্ষণ ও উত্তাপ থেকে নভোচারীদের রক্ষা করাই এর কাজ। কিন্তু ২০২২ সালের মনুষ্যবিহীন ‘আর্টেমিস-১’ পরীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় এই শিল্ড থেকে পোড়া উপাদানের বড় বড় টুকরো খসে পড়ছে।
সাবেক নাসা নভোচারী ও হিট শিল্ড বিশেষজ্ঞ ড. চার্লি কামার্ডা এই মিশনকে ‘উন্মাদনা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি ২০০৩ সালের কলম্বিয়া মহাকাশযান দুর্ঘটনার উদাহরণ টেনে সতর্ক করেছেন যে, নাসা আবারও একটি নিশ্চিত কারিগরি ত্রুটিকে অবহেলা করে বড় বিপর্যয়ের দিকে পা বাড়াচ্ছে।
নাসার বর্তমান নেতৃত্বের দাবি, তারা ত্রুটির মূল কারণ চিহ্নিত করেছেন। তাদের মতে, হিট শিল্ড তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদানে গ্যাস জমে চাপের সৃষ্টি হওয়ায় তা ভেঙে পড়েছিল। তবে আর্টেমিস-২ এর জন্য নাসা নতুন নকশা বা প্রযুক্তি তৈরির পথে হাঁটেনি। তার বদলে তারা মহাকাশযানের পৃথিবীতে ফেরার পথ বা ট্র্যাজেক্টরি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নাসার ধারণা, ফেরার পথ কিছুটা বদলে দিলে উত্তাপের তীব্রতা কমে আসবে এবং বর্তমান শিল্ড দিয়েই নিরাপদে ফেরা সম্ভব হবে।
নাসার এই ‘পথ পরিবর্তন’ তত্ত্ব মানতে নারাজ ড. কামার্ডার মতো বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ওরিয়ন যখন শব্দের চেয়ে ৩০ গুণ বেশি গতিতে বায়ুমণ্ডলে ঢুকবে, তখন ৫ হাজার ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় কম্পিউটার সিমুলেশন আর বাস্তবের পরিস্থিতি এক নাও হতে পারে।
সমালোচকদের ধারণা, বিশাল বাজেট এবং দফায় দফায় সময় পিছিয়ে যাওয়ার চাপে পড়েই তড়িঘড়ি করে এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে নাসা।
এই ঝুঁকিপূর্ণ মিশনে যাত্রী হিসেবে আছেন রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং জেরেমি হ্যানসেন।
মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে ঝুঁকি সবসময়ই ছিল, কিন্তু জানা ঝুঁকি নিয়ে এই চারজন দক্ষ নভোচারীকে মহাকাশে পাঠানো কতটা নৈতিক- সেই প্রশ্নই এখন বিশ্বজুড়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
নাসার এই সিদ্ধান্ত কি প্রযুক্তির জয়গাথা লিখবে, নাকি মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে আরও একটি কালো অধ্যায়ের জন্ম দেবে, তা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।