তেল-গ্যাসের দাবিতে গাড়িবহরের র্যালি নিয়ে প্রশ্ন, পুলিশ সংস্কারে জোর জুলকারনাইনের
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট নিরসনের দাবিতে গাড়িবহর নিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আলজাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। একই সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা, দক্ষতা বাড়ানো এবং পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে জুলকারনাইন সায়ের বলেন, জ্বালানি সংকটের দাবিতে বিপুলসংখ্যক গাড়ি নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার কর্মসূচির সঙ্গে দাবিটির মধ্যে এক ধরনের বৈপরীত্য রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তেল-গ্যাসের সংকটের প্রতিবাদে এত গাড়ি ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি খরচ করার বিষয়টি কীভাবে দেখা হবে।
গত ৫ সেপ্টেম্বর জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করে। কর্মসূচির অন্যতম দাবি ছিল তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার সংকটের সমাধান। এতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারাও অংশ নেন। আয়োজকেরা শুরুতে কয়েক হাজার গাড়ির কথা বললেও পরে জ্বালানি সংকট ও জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনায় তা প্রায় এক হাজারে নামিয়ে আনার কথা জানিয়েছিলেন।
নিজের পোস্টে জুলকারনাইন সায়ের দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অপরাধ দমনের সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ জানান। তাঁর মতে, অপরাধের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব, পেশিশক্তি বা মাদক ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা রয়েছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। শুধু দুর্বল পুলিশিংকে দায়ী না করে অপরাধীদের সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্ভাব্য যোগসূত্রও তদন্তের আওতায় আনার কথা বলেন তিনি।
পুলিশ সংস্কার কমিশনের ‘কেমন পুলিশ চাই’ শীর্ষক জনমত জরিপের তথ্যও তুলে ধরেন জুলকারনাইন। ওই জরিপে ৮৯ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা পুলিশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অবসান চান এবং ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ ক্ষমতার অপব্যবহার ও পুলিশের দুর্নীতি বন্ধে সংস্কারের পক্ষে মত দেন। জরিপে অংশ নেন ২৪ হাজার ৪৪২ জন।
জুলকারনাইন সায়ের তাঁর পোস্টে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে স্বাধীন পুলিশ কমিশনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে আধুনিক তদন্ত পদ্ধতি, ফরেনসিক ও সাইবার অপরাধ বিষয়ে প্রশিক্ষণ বাড়ানো এবং পুলিশ সদস্যদের বেতন-ভাতা, চিকিৎসা ও আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে মানবাধিকার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি। বিশেষ করে মাদকবিরোধী অভিযানে কেবল বাহক বা খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে মাদক ব্যবসার মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনার পক্ষে মত দেন।
পুলিশ সংস্কার কমিশন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাদের সুপারিশের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করে। কমিশনের ওয়েবসাইটে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক পুলিশব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাবের তথ্য রয়েছে।
জুলকারনাইন সায়েরের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির টেকসই উন্নতির জন্য একটি পেশাদার, জবাবদিহিমূলক ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পুলিশ বাহিনী প্রয়োজন।