ভুয়া অ্যাকাউন্ট ঠেকাতে ফ্রি ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ ব্যাজ আনল মেটা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম
ভুয়া অ্যাকাউন্ট, অনলাইন প্রতারণা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া পরিচয়ের বিস্তার রোধে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা। এ লক্ষ্যে প্রকৃত ব্যবহারকারীর পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি চালু করেছে বিনামূল্যের ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ ব্যাজ।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইয়াহু নিউজ জানিয়েছে, নতুন এই ভেরিফিকেশন ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীদের একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও সেলফি ধারণ করতে হবে। এরপর মুখের অবয়ব শনাক্তকরণ (ফেসিয়াল রিকগনিশন) প্রযুক্তির মাধ্যমে সেটি ব্যবহারকারীর বিদ্যমান প্রোফাইল ছবির সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় যাচাই করা হবে।
মেটা জানিয়েছে, এই ব্যাজ কেবল নিশ্চিত করবে যে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টটি একজন প্রকৃত মানুষের। তবে এটি কোনো ব্যক্তির বিশ্বাসযোগ্যতা, গ্রহণযোগ্যতা বা সততার নিশ্চয়তা হিসেবে বিবেচিত হবে না।
পরিচয় যাচাইয়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে প্রতারণা, জালিয়াতি কিংবা কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ডবিরোধী কার্যক্রমের কোনো ইঙ্গিত রয়েছে কি না, তাও পরীক্ষা করা হবে। পুরো যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগবে। সফলভাবে যাচাই শেষ হলে ব্যবহারকারীর প্রোফাইল ছাড়াও ফেসবুক মার্কেটপ্লেস, ফেসবুক ডেটিং এবং ফেসবুক গ্রুপস-এ ভেরিফায়েড ব্যাজ প্রদর্শিত হবে।
এই সুবিধা শুধুমাত্র ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিগত ফেসবুক ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত। ব্যবসায়িক পেজ এবং প্রফেশনাল মোড অ্যাকাউন্টধারীরা আপাতত এ সুবিধার আওতায় থাকছেন না।
মেটা জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত কয়েকটি দেশে এ সুবিধা চালু করা হচ্ছে। পরে ধাপে ধাপে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এটি সম্প্রসারণ করা হবে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নতুন এই সেবা তাদের বিদ্যমান মেটা ভেরিফায়েড সাবস্ক্রিপশন থেকে ভিন্ন। মাসিক অর্থের বিনিময়ে পাওয়া ওই সেবায় সরকারি পরিচয়পত্র জমা দিতে হয় এবং অতিরিক্ত গ্রাহক সহায়তা ও কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়। অন্যদিকে নতুন ফেসবুক ভেরিফায়েড ব্যাজ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে এবং এর উদ্দেশ্য কেবল প্রকৃত ব্যবহারকারীর পরিচয় নিশ্চিত করা।
বিশ্লেষকদের মতে, জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতির ফলে বাস্তবসম্মত ছবি ও কল্পিত ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করা এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে। এ কারণে বিশেষ করে ফেসবুক মার্কেটপ্লেস ও ফেসবুক ডেটিং-এর মতো সেবায় প্রতারণা ও পরিচয় জালিয়াতি বেড়েছে। নতুন এই ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা ব্যবহারকারীদের আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে মেটা।
তবে মুখের অবয়ব শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা এবং বায়োমেট্রিক তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অতীতে বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে এসব অঞ্চলে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়েছিল মেটা।
মেটার দাবি, নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রকৃত ও ভুয়া অ্যাকাউন্ট আলাদা করা সহজ হবে। তবে বিশ্বব্যাপী সেবাটি সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারকারীদের বায়োমেট্রিক তথ্য কীভাবে সংরক্ষণ ও সুরক্ষিত রাখা হবে, সে বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন গোপনীয়তা–সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।