দুর্যোগ মোকাবিলায় আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ মহাপরিকল্পনা
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪২ পিএম
ছবি: ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল আনসার ও ভিডিপি সদর দপ্তরে বাহিনীর মহাপরিচালকের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ , সংগৃহীত
রাজধানী ঢাকার ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডসহ যেকোনো বড় ধরনের আকস্মিক বিপর্যয় রুখতে একযোগে মাঠে নামছে বাংলাদেশ আনসার-ভিডিপি এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। দুর্যোগের প্রথম মুহূর্তেই স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করতে ১ লাখ প্রশিক্ষিত ‘শহর প্রতিরক্ষা দল’ (টিডিপি) স্বেচ্ছাসেবী প্রস্তুত করার একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর খিলগাঁওস্থ আনসার ও ভিডিপির সদর দপ্তরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল এবং আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালকের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, ঢাকার প্রতিটি ওয়ার্ড, জোন ও থানা এলাকাভিত্তিক এই ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ স্বেচ্ছাসেবীদের সুবিন্যস্তভাবে প্রস্তুত রাখা হবে। আনসার-ভিডিপির আধুনিক ডিজিটাল ডাটাবেজ ব্যবহার করে দুর্যোগকালীন মুহূর্তে যেকোনো এলাকা থেকে নিখুঁত সমন্বয়ের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবীদের তাৎক্ষণিক ট্র্যাকিং ও মোতায়েন করা সম্ভব হবে।
প্রশিক্ষিত এই কর্মীরা দুর্যোগের পর প্রথম সাড়াদানকারী বা 'ফার্স্ট রেসপন্ডার' হিসেবে দ্রুত উদ্ধার অভিযান, জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা, ত্রাণ বিতরণ এবং মানবিক পুনর্বাসন কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নেবেন।
এর আগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে আনসার মহাপরিচালক এই সুবৃহৎ স্বেচ্ছাসেবী কাঠামোর ব্যাপক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছিলেন। মন্ত্রী এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করার পর, তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতার সাথে এই বিশাল নেটওয়ার্কের মেলবন্ধন ঘটাতে কৌশলগত বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রস্তাবিত ১ লাখ টিডিপি সদস্যকে বাহিনীর নিয়মিত মৌলিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের কারিগরি সহায়তায় ভূমিকম্প উদ্ধার, অগ্নি-নির্বাপণ ও অন্যান্য আকস্মিক দুর্যোগ মোকাবিলায় উচ্চতর ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে রাজধানীর প্রতিটি এলাকায় প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবীদের একটি শক্তিশালী ও কার্যকর স্থানীয় দুর্যোগ সাড়াদান সক্ষমতা গড়ে তোলা হবে।
বৈঠকে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা ও অগ্নি-নির্বাপণসহ যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুই বাহিনীর একযোগে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। মাঠপর্যায়ে পেশাদারিত্বের মান বাড়াতে প্রশিক্ষণে পারস্পরিক সহায়তা ও কৌশলগত তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়েও বিশদ আলোচনা করেন দুই বাহিনী প্রধান।
ভবিষ্যতে যেকোনো জাতীয় সংকট ও মানবিক দুর্যোগে পারস্পরিক সমন্বিত সহযোগিতা আরও জোরদার করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে দুই বাহিনীর মহাপরিচালক আশা প্রকাশ করেন, এই সমন্বিত ডিজিটাল উদ্যোগ রাজধানীর জননিরাপত্তা রক্ষা ও দুর্যোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনবে।