EN ☀️
×

Follow Us

ধর্ম

দরুদ শরিফ পাঠের ৫ গুরুত্বপূর্ণ সময়

মুফতি ইবরাহিম সুলতান

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৫ এএম

দরুদ শরিফ পাঠের ৫ গুরুত্বপূর্ণ সময়
অ অ

প্রতিদিনের আমলগুলোর মধ্যে আল্লাহর কাছে পছন্দনীয় একটি আমল হলো তাঁর প্রিয় রাসুল (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা। ফজিলতপূর্ণ এই আমল যেকোনো সময়ই করা যায়। তবে হাদিস শরিফে বিশেষ কিছু সময়ে বেশি দরুদ পাঠের নির্দেশনা পাওয়া যায়।

দরুদ পাঠের এমন পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো—

১. নবীর নাম শুনলে

মালেক বিন হুয়াইরিস (রহ.)-এর সূত্রে বর্ণিত, একদা আল্লাহর রাসুল (সা.) মিম্বারে আরোহণ করেন। প্রথম ধাপে চড়েই বলেন, আমিন। অতঃপর দ্বিতীয় ধাপে চড়ে বলেন, আমিন। অনুরূপ তৃতীয় ধাপেও চড়ে বলেন, আমিন।

অতঃপর তিনি (এর রহস্য ব্যক্ত করে) বলেন, “আমার কাছে জিবরাঈল উপস্থিত হয়ে বলেন, ‘হে মুহাম্মদ! যে ব্যক্তি রমজান পেল অথচ পাপমুক্ত হতে পারল না আল্লাহ তাকে ধ্বংস করুন।’ তখন আমি (প্রথম) আমিন বললাম। তিনি আবার বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার মাতা-পিতাকে অথবা তাঁদের একজনকে জীবিতাবস্থায় পেল অথচ তাকে দোজখে যেতে হবে, আল্লাহ তাকেও ধ্বংস করুন।’ এতে আমি (দ্বিতীয়) আমিন বললাম। অতঃপর তিনি বলেন, ‘যার কাছে আপনার (নাম) উল্লেখ করা হয় অথচ সে আপনার উপর দরুদ পাঠ করে না, আল্লাহ তাকেও ধ্বংস করুন।’ এতে আমি (তৃতীয়) আমিন বললাম।”

(ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৯০৭)

২. মজলিস শেষ করার সময়

বিখ্যাত সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, যেসব লোক কোনো মজলিসে বসেছে অথচ তারা আল্লাহ তাআলার স্মরণ করেনি এবং তাদের নবীর প্রতি দরুদও পড়েনি, তারা বিপদগ্রস্ত ও আশাহত হবে। আল্লাহ তাআলা চাইলে তাদের শাস্তিও দিতে পারেন কিংবা মাফও করতে পারেন।

(তিরমিজি, হাদিস : ৩৩৮০)

তাই কোনো মজলিস বা বৈঠক শেষ করার সময় আল্লাহর জিকির ও রাসুল (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা গুরুত্বপূর্ণ আমল।

৩. আজানের পর

বিখ্যাত সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করিম (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, তোমরা যখন মুয়াজ্জিনকে আজান দিতে শোন, তখন সে যা বলে তোমরা তাই বলো। অতঃপর আমার ওপর দরুদ পাঠ করো। কেননা যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে আল্লাহ তাআলা এর বিনিময়ে তার ওপর ১০ বার রহমত বর্ষণ করেন...।

(মুসলিম, হাদিস : ৭৩৫)

অর্থাৎ আজানের জবাব দেওয়ার পর রাসুল (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করার কথা হাদিসে বলা হয়েছে।

৪. শুক্রবার বেশি বেশি

আওস ইবনু আওস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের দিনসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম হলো জুমার দিন। এদিন আদম (আ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিল, এদিনই তাঁর রুহ কবজ করা হয়েছিল, এদিন শিঙায় ফুৎকার দেওয়া হবে এবং এদিনই বিকট শব্দ করা হবে। কাজেই এদিন তোমরা আমার ওপর বেশি দরুদ পাঠ করো। কারণ, তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়। আওস ইবনে আওস (রা.) বলেন, লোকেরা বুঝতে চাচ্ছিল আপনার শরীর তো জরাজীর্ণ হয়ে মিশে যাবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, মহান সর্বশক্তিমান আল্লাহ মাটির জন্য নবী-রাসুলদের দেহ হারাম করে দিয়েছেন।

(আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)

হাদিসে জুমার দিনে রাসুল (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করার প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

৫. মোনাজাতের আগে

নামাজের পর মোনাজাতের আগে দরুদ পড়াও দোয়া করার আদবগুলোর অন্যতম। রাসুল (সা.) নিজেই তাঁর সাহাবায়ে কেরামকে দোয়া করার এ পদ্ধতি শিক্ষা দিয়েছেন।

ফাজালাহ ইবনে উবাইদ (রা.) থেকে বর্ণিত, এক লোককে নবী (সা.) তাঁর নামাজের মাঝে দোয়া করতে শুনলেন, কিন্তু নবী (সা.)-এর ওপর সে দরুদ পড়েনি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, এই ব্যক্তিটি তাড়াহুড়া করেছে। তারপর তিনি তাকে ডাকলেন এবং তাকে বা অন্য কাউকে বলেন, তোমাদের কেউ নামাজ আদায় করলে সে যেন আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও তাঁর গুণগান করে, তারপর রাসুল (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করে, তারপর তার মনের কামনা অনুযায়ী দোয়া করে।

(তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৭৭)

তাই দোয়া করার আগে আল্লাহর প্রশংসা ও রাসুল (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা দোয়ার গুরুত্বপূর্ণ আদবগুলোর একটি।

মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আরও পড়ুন