এআইভিত্তিক ‘অ্যাপ্লাইড আইসিটি’ ভবিষ্যতের কর্মবাজারে গেম চেঞ্জার হবে: জাবি উপাচার্য
ডেইলি সান রিপোর্ট, গাজীপুর
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) নির্ভর ‘অ্যাপ্লাইড আইসিটি’ ভবিষ্যতের কর্মবাজারে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএসএম আমানুল্লাহ। তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে টিকে থাকতে শিক্ষার্থীদের শুধু একাডেমিক জ্ঞান নয়, ডিজিটাল দক্ষতা, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারিক জ্ঞান এবং বাস্তব সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এ লক্ষ্যেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের সব বিষয়ে ‘অ্যাপ্লাইড আইসিটি’ কোর্সকে বাধ্যতামূলক করেছে।
রবিবার (১৯ জুলাই) সাভারের ব্র্যাক সিডিএমে ইউনিসেফ বাংলাদেশের কারিগরি সহযোগিতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত চারদিনব্যাপী ‘রিসোর্স ম্যাটেরিয়ালস ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও দেশে পুরোপুরি সময়োপযোগী ও দক্ষতাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। ফলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী কর্মবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি এ অবস্থার জন্য শিক্ষার্থী বা শিক্ষকদের নয়, বরং নীতিনির্ধারকদের দায়ী করেন।
তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে যে শিক্ষা সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে, তার মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী করে গড়ে তোলা। প্রয়োগমুখী আইসিটি শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল মার্কেটিং, গিগ ইকোনমি ও ফ্রিল্যান্সিংসহ আধুনিক কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারবে। এর ফলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারে তাদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়বে।
ড. আমানুল্লাহ জানান, আইসিটি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করতে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে উন্নত প্রশিক্ষণ মডিউল ও রিসোর্স ম্যাটেরিয়াল তৈরি করা হচ্ছে। এগুলো দেশের প্রতিটি কলেজে সরবরাহ করা হবে, যাতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা-উপকরণ ব্যবহার করতে পারেন।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন কলেজ পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকসংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা থাকলেও শিক্ষকরা আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। কোথাও একজন শিক্ষককে ১৬ থেকে ১৭টি ক্লাস নিতে হচ্ছে, আবার কোথাও আইসিটি ল্যাব না থাকায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে পাঠদান করা হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আইসিটি শিক্ষার উন্নয়নে বড় পরিসরে বিনিয়োগ ও নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের নতুন আইসিটি পাঠ্যক্রম সম্পূর্ণ প্রয়োগভিত্তিকভাবে সাজানো হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত করবে।
ডিজিটাল লিটারেসি প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, বর্তমানে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর হাতে স্মার্টফোন থাকলেও দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ ও সচেতনতার ক্ষেত্রে এখনও ঘাটতি রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার রোধে তরুণদের মধ্যে ডিজিটাল নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান কর্মবাজারে সফল হতে একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি ডিজিটাল লিটারেসি, তথ্য বিশ্লেষণের দক্ষতা, কার্যকর যোগাযোগ, দলগত কাজ এবং প্রযুক্তির সৃজনশীল ব্যবহার অপরিহার্য। এসব দক্ষতা অর্জনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ধারাবাহিকভাবে পাঠ্যক্রম ও শিক্ষণ-পদ্ধতিতে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রশিক্ষণ দপ্তরের পরিচালক সালমা পারভীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শংকর। স্বাগত বক্তব্য দেন কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের ডিন অধ্যাপক ড. এ.এইচ.এম. রুহুল কুদ্দুস। কর্মশালায় বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ, কারিকুলাম ও প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞ, অনলাইন কোর্স ডিজাইন বিশেষজ্ঞ, ফ্যাসিলিটেটর এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।