পুঠিয়া রাজবাড়ির রাণী কমর বেগমের পালঙ্ক উদ্ধার
ডেইলি সান রিপোর্ট, পুঠিয়া (রাজশাহী)
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম
রাজশাহীর পুঠিয়ার চারআনি রাজবংশের শেষ পুরুষ নরেশ নারায়ণের স্ত্রী কমর বেগমের ব্যবহৃত পালঙ্ক উদ্ধার করা হয়েছে। পুঠিয়া রাজবাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে স্থানীয় এক মাছচাষীর বাড়ি থেকে এটি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা পালঙ্কটি পুঠিয়া রাজবাড়ীর জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে। দর্শনার্থীদের জন্যও এটি সেখানে প্রদর্শন করা হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান।
ইউএনও বলেন, স্থানীয় মাছচাষী ইকবালুর বাসার ইলুর বাড়িতে রাজবাড়ির একটি পালঙ্ক রয়েছে, বিষয়টি রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের নজরে আসে। তার নির্দেশে পালঙ্কটি উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে মাছচাষী ইকবালুরের বাড়ি থেকে এটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ইকবালুর দীর্ঘদিন ধরে ওই পালঙ্কটি ব্যবহার করতেন। তিনি বলেন, তার বাবা আবদুর রহমান খান ছিলেন স্কুলশিক্ষক। তিন মাসের বেতনের টাকা জমিয়ে তিনি প্রায় ১৯৯১ সালে ১০ হাজার টাকায় পালঙ্কটি কিনেছিলেন।
ইকবালুরের ভাষ্য, কমর বেগমের মেয়ে রেজিনা জামাল মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে আর্থিকভাবে দুর্দশায় পড়েছিলেন। সে সময় তিনি পালঙ্কটি বিক্রি করে দেন।
পালঙ্কটি উদ্ধারের পাশাপাশি রাজবাড়ির আরও কিছু পুরোনো সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। পাশের ইয়াকুব স্বর্ণকারের বাড়ি থেকে একটি পুরোনো খাট ও একটি ড্রেসিং টেবিলের অংশবিশেষ পাওয়া যায়। ভোলানাথ দত্তের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় তিনটি ঝাড়বাতি।
ইউএনও লিয়াকত সালমান জানান, উদ্ধার করা সব সামগ্রী পুঠিয়া রাজবাড়ীর জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে।
কমর বেগমের পুঠিয়ায় আসা
চারআনি রাজবংশের শেষ পুরুষ নরেশ নারায়ণ নাটোরের রাজা জিতেন্দ্র নাথের দ্বিতীয় কন্যা সুরেশ্বরীকে বিয়ে করেছিলেন। সুরেশ্বরী দেবীর কোনো ছেলে ছিল না। এ কারণে নরেশ নারায়ণের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো ছিল না বলে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত আছে।
নরেশ নারায়ণ প্রায়ই কলকাতায় যেতেন। সেখানে মুসলিম নারী কমর বেগমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে কমর বেগমকে বিয়ে করেন।
কথিত আছে, পরে রাণী সুরেশ্বরী বিষ প্রয়োগ করে নরেশ নারায়ণকে হত্যা করেন। খবর পেয়ে কমর বেগম কলকাতা থেকে পুঠিয়ায় চলে আসেন। এরপর তিনি রাজপরিবারের দায়িত্ব নেন।
পুঠিয়া কাচারিবাড়ির পাশে চারআনি রাজবাড়িতে দীর্ঘদিন বসবাস করেন কমর বেগম। ১৯৮৭ সালে তিনি মারা যান।
তিন ঘণ্টার অভিযান
রাজবাড়ির পুরোনো সামগ্রী উদ্ধারে রোববার দুপুরে অভিযান শুরু করেন ইউএনও লিয়াকত সালমান। বিকেল ৩টা পর্যন্ত অভিযান চলে।
এ সময় পুঠিয়া রাজবাড়ির কাস্টোডিয়ান হাফিজ উদ্দিন, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র আসাদুল ইসলাম আসাদ, পুঠিয়া সাংবাদিক সমাজের সভাপতি ইসলাম লিটন, সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ডলার, পুঠিয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক রুবেল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ওয়াসিমুল হক, উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক রিপন রেজা, যুবদল নেতা রোকনুজ্জামান রিকো, গোলাম কিবরিয়াসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।