জুন-আগস্টের মধ্যে এল নিনোর শঙ্কা, বাড়তে পারে তাপপ্রবাহ
এর ফলে মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় রেখায় অবস্থিত উষ্ণমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের চরম বিপর্যয়ের মধ্যেই ধেয়ে আসছে আবহাওয়ার আরেকটি বিপজ্জনক প্রাকৃতিক রূপ ‘এল নিনো’। চলতি জুন থেকে আগস্টের মধ্যেই এই পরিস্থিতি পুরোদমে গড়ে উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা। এর প্রভাবে পৃথিবীর নানা প্রান্তে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, তীব্র খরা, অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ও চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়বে।
জাতিসংঘের আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক সংস্থাটি জানায়, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ‘এল নিনো’ তৈরি হওয়ার ৮০ শতাংশ আশঙ্কা আছে। আর আগামী নভেম্বর নাগাদ এটি পূর্ণাঙ্গ রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশেরও বেশি। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এবারের এল নিনো মাঝারি থেকে বেশ শক্তিশালী রূপ নিতে পারে।
এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়া। এর ফলে মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় রেখায় অবস্থিত উষ্ণমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। সাগরের এই অতিরিক্ত উষ্ণতা বিশ্বজুড়ে বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক নিয়মে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটায়।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার আঞ্চলিক জলবায়ু কেন্দ্রগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, এল নিনোর প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় (বাংলাদেশ ও ভারতসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে) গড় বৃষ্টিপাতের চেয়ে কম মৌসুমি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা আছে। বৃষ্টিপাত কম হলে এই অঞ্চলে তীব্র খরা ও দাবদাহের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা কৃষি ও জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।
এর আগের এল নিনোর প্রভাবে ২০২৩ সালের উষ্ণতার রেকর্ড ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। সেই ধারা বজায় রেখে পরের বছর গড় তাপমাত্রা প্রায় ১ দশমিক ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, যা পূর্ববর্তী সব উষ্ণতার রেকর্ড ভেঙে দেয়। এবারের এল নিনো যদি পূর্ণ শক্তিশালী রূপ নেয়, তবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছাতে পারে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক ভিডিও বার্তায় বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে বলেছেন- ‘বিশ্বের উচিত এটিকে একটি জরুরি জলবায়ু সতর্কতা হিসেবে বিবেচনা করা। এল নিনো পরিস্থিতি ইতিমধ্যে উত্তপ্ত হতে থাকা পৃথিবীতে ‘আগুনে ঘি ঢালার’ মতো কাজ করবে।’
ডব্লিউএমও’র প্রধান চেলেন্তে সাউলো বিশ্বের সব দেশকে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এল নিনোর প্রভাবে একদিকে যেমন খরা ও ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়বে, অন্যদিকে স্থলভাগ ও মহাসাগর— উভয় অঞ্চলেই তীব্র তাপপ্রবাহের ঝুঁকি তৈরি হবে। এর ফলে সৃষ্ট খাদ্য ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় এখনই বৈশ্বিক সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পর পর এল নিনো ফিরে আসে এবং এটি প্রায় ৯ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। প্রকৃতিতে সাধারণত এল নিনো এবং এর বিপরীত শীতল পরিস্থিতি ‘লা নিনা’ চক্রাকারে আবর্তিত হয়। আর এই দুই পরিস্থিতির মধ্যবর্তী সময়টাতে আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকে।