আইসিসিবিতে ‘চতুর্থ মেইড ইন পাকিস্তান’ প্রদর্শনী শুরু
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম
ছবি: কামরুল ইসলাম রতন
রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হয়েছে ‘চতুর্থ মেইড ইন পাকিস্তান’ প্রদর্শনী।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পাঁচ দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়। এবারের প্রদর্শনীতে পাকিস্তানের বিভিন্ন খাতের ১০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করা এবং নতুন ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব তৈরি করা। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রদর্শনী প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সাধারণ দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, পাকিস্তান অ্যাসোসিয়েশন অব এক্সিবিশন ইন্ডাস্ট্রির (পিএইআই) চেয়ারম্যান ফাহাদ বারলাস, পিএইআই-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এম. খুরশিদ বারলাস।
স্বাগত বক্তব্যে পাকিস্তান অ্যাসোসিয়েশন অব এক্সিবিশন ইন্ডাস্ট্রির (পিএইআই) চেয়ারম্যান ফাহাদ বারলাস বলেন, “চতুর্থ বারের মতো বাংলাদেশে এই আয়োজন হচ্ছে। এবার প্রায় ১০০ এর বেশি কোম্পানি পোশাক, খাদ্য, অ্যাক্সেসরিজসহ নানা খাতে অংশ নিচ্ছে। প্রদর্শনী উপলক্ষ্যে ২৫০ এর বেশি ডেলিগেট বাংলাদেশে এসেছে। গত দুই দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেক এগিয়েছে। বাংলাদেশে পাকিস্তানি পণ্যের বড় বাজার রয়েছে। গত বছর এই প্রদর্শনীতে আমরা ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরাও পাকিস্তানে প্রদর্শনীর আয়োজন করতে পারে। আশাকরি আগামী বছর আমাদের প্রদর্শনীর হল সংখ্যাও বাড়বে।”
পিএইআই-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এম. খুরশিদ বারলাস বলেন, এইটা আমাদের চতুর্থ প্রদর্শনী। আমাদের পরিধি দিন দিন বাড়ছে। এ বছর ২৫০ বিজনেস ডেলিগেট বাংলাদেশে এসেছে। বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যেখানে আমি নিজের দেশের মত মনে করি। আমরা মেড ইন বাংলাদেশ এক্সপো চাই পাকিস্তানে। বাংলাদেশের বড় বাজার রয়েছে পাকিস্তানে। আমরা একসাথে জয়েন্ট প্রদর্শনী আয়োজন করতে পারি অন্য একটি দেশে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ খাতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগ বৃদ্ধির প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরো এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে বাণিজ্য বহুমুখীকরণ, ব্যবসায়ীদের মধ্যকার সংযোগ বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যের ব্যবহারিক বাধাগুলো দূর করা হবে।
এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। বাংলাদেশে পাকিস্তানের রপ্তানি বাংলাদেশের রপ্তানির তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি।
তিনি বলেন, দুই দেশের ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে। যা পারস্পরিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।
তিনি আগামী জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় পাকিস্তানের উদ্যোক্তাদের বড় পরিসরে প্যাভিলিয়ন স্থাপনের আমন্ত্রণ জানান।
প্রদর্শনীতে তৈরি পোশাক, কসমেটিকস, ক্রীড়াসামগ্রী, গয়না, খাদ্য ও পানীয়, চামড়াজাত পণ্য ও সুগন্ধিসহ নানা ধরনের পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পাকিস্তানের উদ্ভাবনী ও গতিশীল ব্যবসায়ের প্রতিনিধিত্ব করছে, যারা বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়তে আগ্রহী।