EN ☀️
×

Follow Us

বাণিজ্য

বেসরকারিভাবে জ্বালানি আমদানিতে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে আস্থা শ্রমিক নেতাদের

ডেইলি সান রিপোর্ট, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম

বেসরকারিভাবে জ্বালানি আমদানিতে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে আস্থা শ্রমিক নেতাদের
অ অ

সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও বর্তমানে অপরিশোধিত (ক্রুড) তেল আমদানি করছে। সেই তেল পরিশোধনের পর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মাধ্যমে বাজারজাত করা হচ্ছে। তাই দেশের স্বার্থে সরকার বেসরকারিভাবে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিলে এতে আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের মহাসচিব মুহাম্মদ এয়াকুব।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। জ্বালানি তেলের সংকট নিরসনে সরকার দেশের স্বার্থে যে সিদ্ধান্ত নেবে, তারা তা মেনে নেবেন।

রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের (জেওসিএল) কার্যালয় ‘যমুনা ভবন’-এর অডিটরিয়ামে এক প্রতিবাদ সমাবেশে এসব কথা বলেন এয়াকুব। জ্বালানি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের হয়রানি বন্ধ, অস্থায়ী শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী করাসহ বিভিন্ন দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে জ্বালানি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীরা অংশ নেন।

এয়াকুব বলেন, বাংলাদেশের অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ক্রুড অয়েল আমদানি করে। তারা ওই তেল পরিশোধন করে। পরে বিপিসির মাধ্যমে তা বিক্রি করা হয়। অর্থাৎ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তেল আমদানি ও বাজারজাতকরণ ইতিমধ্যে চলছে।

দেশের আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যা বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে গিয়ে সরকারকে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবিলায় দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করে সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, তারা তার সঙ্গে একমত।

এয়াকুব আরও বলেন, ‘তারেক রহমানের সরকার জনগণের সরকার, শ্রমিকবান্ধব সরকার। আমরা মনে করি, এমন কোনো সিদ্ধান্ত তিনি চাপিয়ে দেবেন না, যাতে এই খাত বা দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

সমাবেশে জ্বালানি খাতে শ্রমিক অধিকার খর্ব এবং খাতটিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার অভিযোগও করা হয়। এয়াকুব বলেন, সরকারের মধ্যে থাকা একটি ‘কুচক্রী মহল’ এ ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছে।

বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের মহাসচিবের অভিযোগ, অযাচিত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে শ্রমিকদের বিদ্যমান ২২টি সুবিধা কমানোর চেষ্টা চলছে। দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে সুযোগ-সুবিধা যুগোপযোগী করার ক্ষেত্রেও গড়িমসি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতের শ্রম আইন শ্রমিকবান্ধব না করে শ্রমিকবিরোধী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এয়াকুব বলেন, সরকার শ্রমিকদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলছে। এ জন্য বিভিন্ন উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু জ্বালানি খাতে এর উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।

বিপিসির আওতাধীন পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, এসএওসিএল ও এলপিজিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিবর্তে কমানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শ্রমিক নেতাদের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জ্বালানি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের পথও রুদ্ধ করার চেষ্টা হচ্ছে বলে দাবি করেন বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের মহাসচিব। তিনি বলেন, শ্রমিক-কর্মচারীরা জ্বালানি খাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চান।

তিনি আরও বলেন, ‘জ্বালানি খাতে কাউকে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না। শ্রমিক-কর্মচারীরা শুধু তাঁদের ন্যায্য অধিকার চান। হয়রানি বন্ধ চান। অযাচিত হস্তক্ষেপমুক্ত পরিবেশ চান।’

যেসব অভিযোগ শ্রমিকদের

সমাবেশ থেকে শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে কয়েকটি অভিযোগ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিপিসির তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা সময়োপযোগী করার জন্য নতুন দ্বিপক্ষীয় চুক্তি না হওয়া।

সংগঠনটির দাবি, সাধারণত দুই বছর পরপর দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে এসব সুবিধা হালনাগাদ করা হয়। কিন্তু সর্বশেষ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রায় ১৯ মাস পার হতে চললেও কোম্পানিগুলোর অবহেলা ও গড়িমসির কারণে নতুন চুক্তি হচ্ছে না।

শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ গত ১৭ জুন বিপিসির আওতাধীন কোম্পানিগুলোর ‘প্রান্তিক সুবিধা নীতিমালা-২০২৬’-এর খসড়া প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে শ্রমিক-কর্মচারীদের বিদ্যমান ২২টি সুবিধা কাটছাঁটের চেষ্টা চলছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ‘শিল্প বিরোধ ও শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তি’ বিষয়ে ২০৯, ২১০ ও ২১১ ধারা রহিত করে শ্রমিকদের পক্ষে প্রতিনিধিত্বকারী সিবিএ নেতাদের ক্ষমতা কমানোর চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

শ্রমিক সংগঠনটির আরও অভিযোগ, খনিজ সম্পদ বিভাগ গত ২৬ জুলাই একটি অফিস আদেশ জারি করেছে। এতে বিপিসির পরিচালক (অপারেশন)কে আহ্বায়ক করে আট সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তেল বিপণন কোম্পানিগুলোতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং জবাবদিহির বিষয়ে সুপারিশ চাওয়া হয়েছে। এতে শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

এ ছাড়া বিভিন্ন কোম্পানিতে কোম্পানি-সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের অধীনে ‘নো ওয়ার্ক, নো পে’ ভিত্তিতে অল্প বেতনে কাজ করা শ্রমিকদের নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করা হয়।

সমাবেশে যমুনা অয়েল কোম্পানি লেবার ইউনিয়নের সভাপতি আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন পদ্মা অয়েল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি জসিম উদ্দিন, এলপিজি শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মনির হোসেন, বিপিসির শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, পদ্মা অয়েল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক সেলিম কবির চৌধুরী এবং যমুনা অয়েল লেবার ইউনিয়নের সহসাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ মন্নান প্রমুখ।

আরও পড়ুন